চট্টগ্রাম হালিশহরে বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে সামির আহমেদ সুমন (৪০) নামের আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল তিনজনে।
মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সামির মারা যান। এর আগে একইদিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কিশোর শাওন ও গত সোমবার সন্ধ্যায় তার মা নুরজাহান আক্তার রানীর (৪০) মৃত্যু হয়।
সামির ও শাওন সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান জানান, সামিরের দেহে ৪০ ও শাওনের ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। সঙ্গে তাদের শ্বাসনালীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সেহরি করার সময় হালিশহরের এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে।
এতে একই পরিবারের তিন শিশুসহ নয়জন দগ্ধ হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তবে বেশিরভাগের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সোমবার তাদের সবাইকে ঢাকার বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনায় অন্য দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন- নিহত রানীর স্বামী সাখাওয়াত (৪৬), তার আরেক সন্তান উম্মে আইমান স্নিগ্ধা (১০), সাখাওয়াতের ভাই শিপন হোসাইন (৩১), নিহত সামিরের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি (৩০), তাদের দুই সন্তান আয়েশা (৪) ও ফারহান আহমেদ আনাছ (৬)।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পাখি ও সাখাওয়াতের দেহ শতভাগ পুড়ে গেছে। এছাড়া শিপনের ৮০, আইমানের ৩৮, আনাছের ৩০ ও আয়েশার দেহে পোড়া ৪৫ শতাংশ।
দগ্ধ সাখাওয়াতের চাচাতো ভাই মো. মিলন জানান, তাদের বাড়ি কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার বাগমারা গ্রামে। সাখাওয়াত হোসেন হালিশহরে মোটরপার্টসের ব্যবসা করেন। ভাই সামির পর্তুগাল প্রবাসী। গত ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশে আসেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে সাখাওয়াতের বাসায় সামির পরিবার নিয়ে ডাক্তার দেখাতে আসেন। তার আরেক ভাই শিপনও হালিশহরেই থাকেন। দুর্ঘটনার দিন তারা সবাই সাখাওয়াতের বাসায়ই ছিলেন।


