চট্টগ্রামের হালিশহরে এইচ ব্লকের একটি আবাসিক ভবনে গ্যাসের বিস্ফোরণে একই পরিবারের নয়জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দগ্ধদের সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
সোমবার ভোরে ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামক ভবনের তৃতীয় তলায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
আগুনে দগ্ধরা হলেন শাখাওয়াত হোসেন (৪৬), মোহাম্মদ শিপন (৩২), মোহাম্মদ সুমন (৪০), মোহাম্মদ শাওন (১৭), মোহাম্মদ আনাস, মোহাম্মদ ঈমান (৯), আয়েশা আক্তার (৪), পাখি আক্তার (৩৫) ও রানী আক্তার (৪০)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যরা সেহরি শেষ করে ফজরের নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় পাশের দুটি ফ্ল্যাটের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জানালার কাঁচ ভেঙে পড়ে।
তৃতীয় তলার ওই বিস্ফোরণের আগুন দ্বিতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম তলা পর্যন্ত ছড়িয়েছে। উড়ে গেছে প্রতি ইউনিটের মূল ফটক, ভেঙেছে লিফট।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের চিকিৎসক আশফাক বলেন, পাখি আক্তার, রানী আক্তার ও শাখাওয়াত হোসেনের শরীর শতভাগ পুড়ে গেছে। শিপনের শরীরের ৮০ শতাংশ, শাওন ও সুমনের ৪৫ শতাংশ, আনাসের ২৫ শতাংশ, আয়েশার ২০ শতাংশ এবং ঈমানের ১৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
চিকিৎসক আরও জানিয়েছেন, প্রত্যেকের শ্বাসনালিতে ধোঁয়া প্রবেশ করেছে এবং ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা তাদের অবস্থা আরও জটিল করে তুলেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দগ্ধদের প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় পর্যায়ক্রমে নয়জনকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাসাটিতে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হতো না। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন লাইনের সংযোগ ছিল।
ধারণা করা হচ্ছে, চুলা থেকে গ্যাস লিক হয়ে রান্নাঘরে জমে যায়। পরে আগুন জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরিত হয়।
তবে পরিবারের এক আত্মীয় বলেন, লিফটের দিক থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল বলে তাদের সন্দেহ। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।


