হাম ও হামের উপসর্গে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১০ শিশু মারা গেছে। এ সময়ে মোট ৭৩২টি শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে। হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৬৭৪ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়েছে ৫৮ শিশু।
শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এ মৃত্যু রেকর্ড করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হাম ও হামের উপসর্গে ঢাকায় ৯ ও সিলেটে ১টি শিশু মারা গেছে।
এতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৪৮৫টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯০টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৫৭৫টি শিশু মারা গেছে।
এ ছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৫৮টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৬৭৪। এই সময়ে ৬১৬টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৫৮৫টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮ হাজার জনে এবং ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৯৪৩ জন। একই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মোট ভর্তি হয়েছেন ৫৪ হাজার ৭৯৮ জন এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫১ হাজার ৫১১ জন।
মৃত্যুহারের দিক থেকে ঢাকা বিভাগ ও ঢাকা জেলাতেই সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১৯৬ জন এবং ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগে ঢাকা জেলায় সর্বোচ্চ ২ জন মারা গেছেন।
বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৩২ হাজার ৪০৭ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত চট্টগ্রাম বিভাগে ১১ হাজার ৯৫ জন এবং রাজশাহী বিভাগে এই সংখ্যা ৬ হাজার ২৪৭ জন।
অন্যান্য বিভাগের মধ্যে খুলনায় ৫ হাজার ১০৮ জন, সিলেটে ৩ হাজার ৪৩২ জন, ময়মনসিংহে ২ হাজার ৮৭৩ জন, বরিশালে ৬ হাজার ৮৯ জন এবং রংপুর বিভাগে ১ হাজার ৩২৮ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত রোগীর মধ্যেও ঢাকা বিভাগে সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ, ৩৩৫ জন; এরপরের অবস্থানে রয়েছে বরিশাল, ১২৮ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৯ জন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি ২০২৬-এর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে মোট ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ৪৮ জনকে টিকা প্রদান করা হয়েছে, যার জাতীয় কভারেজ ১০২ শতাংশ।
বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ কভারেজ অর্জিত হয়েছে চট্টগ্রাম, ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগে প্রতিটিতে ১০৩ শতাংশ। অন্যদিকে, সিলেট বিভাগে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম, ৯৯ শতাংশ কভারেজ অর্জিত হয়েছে।
দেশের প্রধান সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতেও এই টিকাদান কর্মসূচি সম্পন্ন হচ্ছে। সিটি করপোরেশনগুলোতে মোট ১৯ লাখ ৫ হাজার ৯৫০ জন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মোট ২০ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি, কভারেজ ১০৬ শতাংশ।
এর মধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সর্বোচ্চ ১১৩ শতাংশ কভারেজ অর্জিত হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ১০৯ শতাংশ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ১০৭ শতাংশ এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে ১০৫ শতাংশ কাভারেজ রেকর্ড করা হয়েছে। তবে সর্বনিম্ন কাভারেজ দেখা গেছে রংপুর সিটি করপোরেশনে, ৯৮ শতাংশ।


