দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামে নিশ্চিত মৃত্যু হয়েছে দুই শিশুর এবং অপর ১৫ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। এটি এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা।
সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর এ ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হামে গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে ৩১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ৫২ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে এবং ২৫৯ জনের মৃত্যু সন্দেহজনক হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৩০২ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ও নিশ্চিত হাম রোগী ১৫৪ জন শনাক্ত হয়েছে । এ নিয়ে গত দেড় মাসে মোট সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৭৯৩ জনে। এ ছাড়া ৫ হাজার ৪৬৭ জনের দেহে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে আক্রান্তদের মধ্যে ২৮ হাজার ৮৪২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৫ হাজার ১৫১ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগ ও জেলা মৃত্যুর দিক থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১১ জন সন্দেহজনক রোগী মারা গেছেন, যার মধ্যে আটজনই ঢাকা জেলার। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে চারজন সন্দেহজনক মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক মৃত্যুর পরিসংখ্যানেও ঢাকা বিভাগ ১২৭ জন নিয়ে শীর্ষে রয়েছে, এরপরই রয়েছে রাজশাহী (৭০ জন) এবং চট্টগ্রাম (২৫ জন) বিভাগ।
হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সারা দেশে ৫ এপ্রিল থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করছে। ১৮ কোটি ১২ লাখ ৮০৩ জন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ পর্যন্ত ১৫ কোটি ৫৬ লাখ ২২২ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা জাতীয়ভাবে লক্ষ্যমাত্রার ১০১ শতাংশ। বিভাগগুলোর মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে কাভারেজ ১০১ শতাংশ হলেও সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশন ১৬৬ শতাংশ কাভারেজ নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। তবে সিলেট সিটি করপোরেশনে এই হার তুলনামূলক কম, মাত্র ৮২ শতাংশ।


