সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তালিকাভুক্ত অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মাত্র ২২ শতাংশ মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এ তথ্য জানান।
ফরিদ বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায় ৫২৩টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ রয়েছে। বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে তালিকাটি ২৯৫টিতে নামিয়ে আনে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে তা আরও কমিয়ে ১১৭টি করেছে। এটিকে বিশ্বের সর্বনিম্ন তালিকা বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ওষুধের মজুদ মাত্র ২২ শতাংশ। ফলে জনগণকে নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
গত অর্থবছরে ৩৫ হাজার কোটি টাকার স্বাস্থ্য বাজেটের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ওষুধ কেনা হয়েছে। এর ৬২ শতাংশ সরবরাহ করেছে সরকারের মালিকানাধীন এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)।
ফরিদের অভিযোগ, ইডিসিএল বাজারদরের প্রায় দ্বিগুণ দামে ওষুধ সরবরাহ করছে। বাজারদরে সরবরাহ করা হলে একই অর্থে আরও প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার ওষুধ কেনা সম্ভব হতো।
তিনি আরও বলেন, গত অর্থবছরে দেশের মানুষ নিজেদের পকেট থেকে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার ওষুধ কিনেছে। আনুপাতিক হারে এ ব্যয় বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের।
ফরিদ বলেন, সরকারের ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা রয়েছে। অথচ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ নিশ্চিত করতে এ খাতে কোনো বরাদ্দ নেই।
তিনি তিন দফা দাবি জানান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৫২৩টি ওষুধের তালিকা অনুসরণ করে দেশের তালিকা পুনর্নির্ধারণ, বর্ধিত বাজেট থেকে ভর্তুকি বা প্রণোদনার মাধ্যমে ওষুধ সহজলভ্য করা এবং ইডিসিএলের সরবরাহমূল্য কমাতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।


