গুলিতে আহত হওয়ার পরেও শামীম ওসমানের নির্দেশে চিকিৎসা না পাওয়ার দাবি করেছেন জুলাইযোদ্ধা কাউসার আহমেদ। তার দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের সময় তার বাঁ পায়ে গুলি লাগে। পরে তাকে খানপুর হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসা না দেওয়ায় সেদিন সেখানে চিকিৎসা পাননি বলে ট্রাইব্যুনালে জানান তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি দেন কাউসার আহমেদ।
কাউসার গেজেটভুক্ত ‘গ’ শ্রেণির আহত জুলাইযোদ্ধা। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
জবানবন্দিতে তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে তিনি নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া মোড়ে আন্দোলনে যোগ দেন। বেলা পৌনে ২টার দিকে চাষাড়া মোড়ে শামীম ওসমানের বাড়ির সামনে ২০ থেকে ২৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালান বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, ওই হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন শামীম ওসমান, অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, টিটু, শাহ নিজাম, ফাইজুল, নিয়াজুল, টিপু, দিপু ও সাইদ। তাদের হাতে দেশি-বিদেশি অস্ত্র ছিল বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন কাউসার। কাউসার বলেন, ‘তাদের ছোড়া গুলি আমার বাঁ পায়ে লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে আমি রাস্তায় পড়ে যাই। পরে কে বা কারা আমাকে নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যান।’
তার অভিযোগ, চিকিৎসা না দেওয়ার জন্য শামীম ওসমান চিকিৎসকদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ কারণে খানপুর হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা পাননি। পরে তাকে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। ৮ আগস্ট অস্ত্রোপচার করে তার পা থেকে গুলি বের করা হয় বলে জবানবন্দিতে জানান কাউসার।
নারায়ণগঞ্জে হতাহতের বর্ণনা
জবানবন্দিতে কাউসার বলেন, ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে এই মামলার আসামিদের গুলিতে আরও অনেকে আহত হন। ওই দিন বন্দর এলাকার সুজন নামে একজন নিহত হন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জে বহু মানুষ হতাহত হন। তিনি বলেন, শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জের গডফাদার ছিলেন। তার নেতৃত্বে উল্লিখিত ব্যক্তিরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া বহু মানুষকে হতাহত করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। নিজেকে গুলি করে আহত করাসহ অন্যান্য আন্দোলনকারীদের হতাহত করার জন্য মামলার আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন কাউসার আহমেদ।
মামলার অভিযোগ
শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে গত ১৩ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। মামলার সব আসামিই পলাতক। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দমনে শামীম ওসমান অস্ত্র হাতে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন এবং ছাত্র-জনতাকে হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রসিকিউশনের দাবি, তিনি নিজেও অস্ত্র হাতে গুলি চালিয়েছেন।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের অনুমতি নিয়ে শামীম ওসমান তার সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে মামলার অন্য ১১ আসামিকে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে হত্যাকাণ্ড চালান। মামলায় শামীম ওসমানের পাশাপাশি তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমান এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, চাষাঢ়া ও সাইনবোর্ড এলাকায় মোট ১০ জনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।


