হামের প্রকোপ না কমা পর্যন্ত সারা দেশে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিটের ওপরে হাইকোর্টে সোমবার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন পূর্ণিমা জাহান।
এর আগে হামের প্রকোপ না কমা পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে ২ এপ্রিল হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে সম্প্রতি দেশে হামের কারণে ৪৭ শিশুমৃত্যুর ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন জানানো হয় রিটে।
রিটে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে বলা হয়, আদালতের কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে, যেখানে মৃত্যুর সংখ্যা, সংক্রমণের পরিমাণ, টিকাদানের হার, টিকার প্রাপ্যতা এবং গৃহীত পদক্ষেপসমূহ উল্লেখ থাকবে। একই সঙ্গে টিকাদান কাভারেজ নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা, টিকার ঘাটতি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় বিলম্বের কারণ নির্ধারণের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন তদন্ত পরিচালনার নির্দেশনা চাওয়া হয়।
এ ছাড়া কেন সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফল আদালতের সামনে উপস্থাপন করতে বলা হয়।
রিটে আরও বলা হয়, সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা, টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত না করা, স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা ও জরুরি সাড়া প্রদানে ঘাটতি, এসবই সংবিধানের ২৭, ৩১ এবং ৩২ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।
বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়, যেন তারা অবিলম্বে দেশব্যাপী জরুরি হাম টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করে এবং টিকা, সিরিঞ্জ ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সরবরাহ পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে নিশ্চিত করে।
চলমান প্রাদুর্ভাব থাকা সত্ত্বেও স্কুলে সংস্পর্শ নিয়ন্ত্রণসহ তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতা জননিরাপত্তার প্রতি বেপরোয়া অবহেলা এবং জীবনের জন্য আসন্ন ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে, এ মর্মে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়।
এর আগে ১ এপ্রিল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশের শিশুদের হামের টিকার ব্যবস্থা করতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।
মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া এই নোটিশ পাঠান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।
লিগ্যাল নোটিশে আইনজীবী একলাছ উদ্দিন উল্লেখ করেন, টিকার অভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া আক্রান্ত অনেক শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অথচ এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।


