দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে হামের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম উপসর্গে আটজনের মৃত্যু হয়েছে।
তাদের মধ্যে সাত জনের হাম সংক্রমণের উপসর্গ থাকলেও তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত সবশেষ স্বাস্থ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৯ জনে (২১৬ জন সন্দেহজনক এবং ৪৩ জন নিশ্চিত)।
এই সময়ে সারা দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৩২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে এক হাজার ৪২১ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে।
একই সময়ে সারা দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৪৩ জন, যা নিয়ে এ পর্যন্ত মোট নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৬০৩ জনে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হাম উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি।
গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে পাঁচজন সন্দেহজনক এবং একজন নিশ্চিত হাম রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে মোট ১০২ জন সন্দেহজনক এবং ২৮ জন নিশ্চিত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। জেলা হিসেবেও মৃত্যুর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা ।
বিভাগীয় পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৬৮৪ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ৯১ জন নিশ্চিত রোগী পাওয়া গেছে। অন্য বিভাগের মধ্যে রাজশাহীতে ২৪৪ জন, চট্টগ্রামে ১৮৯ জন এবং বরিশালে ১০৯ জন নতুন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রেও ঢাকার চাপ সবচেয়ে বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় এই বিভাগে হাম উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৪০৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন । সারা দেশে এখন পর্যন্ত মোট ২১ হাজার ৪৩৪ জন হাম উপসর্গের রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৭ হাজার ৯৫৫ জন ।
এদিকে, ক্রমবর্ধমান হাম সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারিভাবে জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি ২০২৬ চলছে। গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত সারা দেশে ৭৩ লাখ ৭৬ হাজার ৯৯৫ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৯৯ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে টিকা পেয়েছেন ১০ লাখ ৬০ হাজার ৫৯৩ জন। সিটি কর্পোরেশন এলাকাগুলোর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রামে টিকার কাভারেজ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি (১০১%) অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।


