এপ্রিলের তপ্ত দুপুরে বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তদের জন্য এক পশলা স্বস্তির খবর নিয়ে এলেন বাফুফে সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম। হামজা চৌধুরী ও শমিত শোমের পর এবার আমেরিকান বংশোদ্ভূত ফরোয়ার্ড ট্রেভর ইসলামকে জাতীয় দলে ভেড়ানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে ফাহাদ করিম জানান, ট্রেভরের জন্মনিবন্ধন তৈরির কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে একাডেমিক ব্যস্ততা ও লিগ কমিটমেন্টের কারণে ২০২৬ সালে তার জাতীয় দলে অভিষেক হওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা কম হলেও, ২০২৭ সাল নাগাদ এই মেধাবী ফরোয়ার্ডকে বাংলাদেশের জার্সিতে দেখার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ট্রেভরের এই আগমন বার্তা কেবল মাঠের শক্তির বিচারে নয়, বরং তার মেধার কারণেও দেশের ফুটবল মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি বর্তমানে বিশ্ববিখ্যাত স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছেন এবং সেখানকার ইউনিভার্সিটি দলের হয়ে নিয়মিত খেলছেন। ফাহাদ করিমের মতে, ‘স্ট্যানফোর্ড কেবল আমেরিকার নয়, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি ডিপি-১ (ডিভিশন-১) লিগে খেলা মানেই হলো তার ফুটবলীয় প্রতিভা প্রশ্নাতীত। আমরা যখন থেকে তার কথা শুনেছি, তার এই আউটস্ট্যান্ডিং ট্যালেন্ট আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।’
পুরো প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল গত বছরের ১২ ডিসেম্বর, যখন ট্রেভর নিজেই হোয়াটসঅ্যাপে বাফুফে সহ-সভাপতির সাথে যোগাযোগ করেন। এর আগে জাতীয় দলের বর্তমান সদস্য জায়ান আহমেদের বাবা শরীফ আহমেদ আমেরিকা থেকে ফাহাদ করিমকে ট্রেভরের আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন। এরপর গত কয়েকমাসে প্রক্রিয়াটি দ্রুত এগিয়েছে। চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি ট্রেভরের জন্মনিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় পারিবারিক নথিপত্র প্রস্তুত করা হয়। বর্তমানে তার পাসপোর্টের কাজ চলছে এবং মে মাসের মধ্যেই তা হাতে পাওয়ার কথা রয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিসে তার বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করার প্রস্তুতিও চূড়ান্ত।
তবে ট্রেভরকে এখনই মাঠে না পাওয়ার পেছনে বড় কারণ তার শিক্ষা ও পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের ভারসাম্য। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির এনসিএএ লিগের প্রতি তার কঠোর প্রতিশ্রুতি এবং একাডেমিক চাপের কারণে ২০২৬-এর মার্চ বা জুন উইন্ডোতে তিনি আসতে পারছেন না। ফাহাদ করিম জানান, ‘ট্রেভর আমাকে ফ্র্যাঙ্কলি বলেছে যে সেপ্টেম্বরেও আসা তার জন্য কঠিন হবে। তবে নভেম্বরের উইন্ডো নিয়ে তিনি কিছুটা আশাবাদী। আমরা তার ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করতে চাই না। তার নথিপত্র আমরা রেডি করে রাখছি যাতে তিনি প্রস্তুত হওয়া মাত্রই স্কোয়াডে যোগ দিতে পারেন।’
জাতীয় দলে তার ভূমিকা ঠিক কী হবে, তা নিয়ে এখনই কোনো ট্যাকটিকাল বিশ্লেষণে যেতে চান না ফাহাদ করিম। তবে এই ফরোয়ার্ডের সামর্থ্য নিয়ে তিনি যথেষ্ট আশাবাদী। টাইমস অব বাংলাদশকে তিনি বলেন, ‘ট্রেভরের প্রলিফিক বা জাত ফরোয়ার্ড সত্তা বর্তমান দলের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে। মাঠে তার ভূমিকা কী হবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত টেকনিক্যাল স্টাফরাই নেবেন।’ মূলত ট্রেভরের ফিনিশিং দক্ষতা এবং বিদেশের প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের অভিজ্ঞতাকেই বড় করে দেখছেন এই বাফুফে কর্মকর্তা। যদিও ২০২৬-এ তার অংশগ্রহণ অনিশ্চিত, তবে লাল-সবুজের আক্রমণভাগে ট্রেভর ইসলাম যে এক দারুণ সংযোজন হতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে ফুটবল বোদ্ধারা এখনই আশার আলো দেখছেন।


