তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলমান যুদ্ধ বন্ধে স্থায়ী শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিক মাধ্যমে (দূরবর্তী পদ্ধতিতে) সমঝোতা স্মারকে সই করেন।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, স্মারক সইয়ের জন্য প্রাথমিকভাবে আগামী শুক্রবার সময় নির্ধারিত হলেও তার একদিন আগেই সমঝোতা চূড়ান্ত করলেন দুই নেতা।
স্মারক সইয়ের সময় ট্রাম্প জি-৭ এর শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ভার্সাই প্রাসাদে অবস্থান করছিলেন।
প্রাসাদ ছাড়ার আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা (সমঝোতা স্মারক) সই হয়েছে। আমি ভার্সাইতে কেবলই এটি সই করেছি।’
ট্রাম্পের সমঝোতা স্মারকে সই করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাখোঁ। তিনি লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আজ রাতে ভার্সাইয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চুক্তিতে সই করেছেন।’
ইরানের পক্ষ থেকেও সমঝোতা স্মারকে সই করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সংবাদ সংস্থা ইরনাকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সই করার মধ্য দিয়ে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত হলো। এখন এ চুক্তির বাস্তবায়ন হবে কিনা তা যাচাইয়ের সময় এসেছে।’
ইসমাইল বাঘাই আরও জানান, সমঝোতা স্মারকটি ইলেকট্রনিকভাবে সই হয়েছে। এটি নিয়ে ইরানের কোনো আনুষ্ঠানিকতার পরিকল্পনা নেই বলেও নিশ্চিত করেন তিনি৷
এর আগে সুইজারল্যান্ডের স্থানীয় সময় শুক্রবার লুসার্ন হ্রদের পাহাড়ি এলাকায় একটি বিলাসবহুল হোটেলে দুই পক্ষের চুক্তি সইয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা বলেছিল দেশটির সরকার। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের পক্ষে পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
এ বিষয়ে ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘যুদ্ধ বন্ধের মতো কোনো নথিতে দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সই করলে তা লঙ্ঘনের মূল্য স্বাভাবিকভাবে অনেক চড়া হয়। অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমরা চেয়েছিলাম, বিষয়টি এভাবেই হোক।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারকের মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও এক্সে পোস্টে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এখন এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।’
এর আগে বুধবার ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের নথি প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা ১৪ দফার এ নথি পড়ে শোনান।
এতে বলা হয়, অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং বিনিময়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে। সেই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা শুরু হলো।


