কিছুদিন আগেও টেলিভিশন আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ফজলুর রহমান। অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে সমালোচনায় ছিলেন সোচ্চার তিনি। এক পর্যায়ে তাকে সাময়িক বহিষ্কারও করে বিএনপি। অবশ্য কিছুদিন আগে সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হয়েছে।
সোমবার বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণার পর দেখা গেল, আগামী নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৪ আসন থেকে দলের টিকিট পেয়েছেন এই নেতা।
ফজলুর রহমান একসময় ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে এই দল থেকেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে পরাজিত হন। এরপর যোগ দেন কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগে। সেখান থেকে চলে যান বিএনপিতে।
গত বছর ১৫ আগস্ট রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন করেছিলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। এরপর থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। নতুন এই দলের নেতাদের নিয়ে কটুকাটব্য করতেও ছাড়েননি। এনসিপিকে সবসময় ন্যাশনাল চিল্ড্রেন পার্টি বলেন তিনি।
বিএনপি থেকে সাময়িক বহিষ্কার হওয়ার পর নির্বাচনে তার মনোনয়নও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। পরে সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হয়েছে, নির্বাচনে তিনি মনোনয়নও পেয়েছেন।
টেলিভিশনের টক শো’র আরেক জনপ্রিয় মুখ বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা। তিনি বিএনপির সহআন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। তিনিও টেলিভিশন টক শো’তে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। এমনকি আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের সমালোচনাও করেছেন। এনসিপিও ছিল তার সমালোচনার বিষয়।
২০১৮ সালের নির্বাচনের পর তিনি ছিলেন নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য। আগামী নির্বাচনেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে মনোনয়নের জন্য লড়াই করছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে একাট্টা ছিলেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী অপর সাত নেতা। এছাড়া এই আসনে প্রার্থী হিসাবে আছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি ও হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব।
বিএনপির সঙ্গে তাদের জোট গঠনের সম্ভাবনা বেশ প্রবল। আর জোট হলে এই আসনটি জুনায়েদ আল হাবীবকে ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০০১ সালের নির্বাচনেও এই আসনটি ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি ফজলুল হক আমিনীকে ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপি।
একদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের তীব্র বিরোধিতা, অন্যদিকে জোট গঠনের সম্ভাবনা। এই দুইয়ের মাঝে ঝুলে আছে রুমিন ফারহানার মনোনয়ন ভাগ্য।


