হানিট্র্যাপ করে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতেই রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
শনিবার সকালে ঢাকার কারওয়ানবাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান র্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফিন।
তিনি জানান, ‘প্রেমিকা শামীমাকে দিয়ে হানিট্র্যাপে (যৌন সম্পর্কের ফাঁদ) ফেলা হয়েছিল আশরাফুলকে। অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল উদ্দেশ্য। টাকা না পেয়েই আশরাফুলকে হত্যা করেন জরেজ ও তার প্রেমিকা শামীমা।’
ফায়েজুল আরেফিন জানান, শামীমার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশরাফুলের রক্তমাখা শার্ট, গোল গলা টি-শার্ট, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দড়ি ও স্কচটেপ উদ্ধার করা হয়। তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া ১০ লাখের মধ্যে জরেজের ৭ লাখ ও শামীমার ৩ লাখ টাকা নেওয়ার চুক্তিও হয়।
এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো পূর্বশত্রুতা বা অন্য কোনো কারণ আছে কিনা তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।
গত ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার জাতীয় ঈদগাহ মাঠের সামনে পথচারীদের নজরে পড়ে দুটি নীল ড্রাম। পুলিশ এসে ড্রাম খুলে ২৬ টুকরো মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্ত ও প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে সেটি আশরাফুল হকের দেহাবশেষ।
এর আগে, মঙ্গলবার প্রবাসী বন্ধু জরেজকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা যান আশরাফুল। শুক্রবার নিহতের বড় বোন বাদী হয়ে বন্ধু জরেজসহ অজ্ঞাতদের নামে মামলা করে। এদিন বিকালে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে প্রধান আসামি জরেজ ও ঢাকা থেকে তার প্রেমিকা শামীমাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পেশায় কাঁচামাল আমদানিকারক ছিলেন আশরাফুল। গ্রেপ্তার বাল্যবন্ধু জরেজ আগে মালয়েশিয়া থাকতেন। সম্প্রতি বাড়িতে এসে জাপান যাওয়ার জন্য ২০ লাখ টাকা ধার চেয়েছিলেন আশরাফুলের কাছে। সেই টাকা দেওয়ার জন্যই আশরাফুল জরেজকে ঢাকায় নিয়ে যান।


