ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে শুক্রবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস ও সম্মিলিত জুলাই জোট।
জুমার নামাজের পরপরই শুরু হওয়া সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা হাদি হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সমাবেশে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীরা ‘আমি কে, তুমি কে—হাদি হাদি’, ‘আমার সোনার বাংলায় খুনি লীগের ঠাঁই নাই’, ‘ফ্যাসিবাদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’ এবং ‘আমরা সবাই হাদি হবো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এদিকে একই এলাকায় খেলাফত মজলিস ও সম্মিলিত জুলাই জোটের ঢাকা দক্ষিণ শাখা আলাদা কর্মসূচি পালন করে।
সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, হাদির হত্যাকাণ্ডটি ছিল একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, যার লক্ষ্য ছিল সরকারবিরোধী ও আধিপত্যবিরোধী কণ্ঠস্বর দমন করা। তাদের অভিযোগ, দেশে যখনই আধিপত্যবিরোধী শক্তি মাথা তোলে, তখনই হত্যার মাধ্যমে তা দমন করার চেষ্টা করা হয়।
জাতীয় সার্বভৌমত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা বিদেশি আধিপত্যের সমালোচনা করেন এবং বিশেষভাবে ভারতের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশে কোনো বিদেশি আধিপত্য বা তার দোসরদের ঠাঁই হবে না।
বিক্ষোভকারীরা হাদি হত্যার বিচারিক প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অগ্রগতি না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার এক দিন পর ১২ নভেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়। প্রথমে দেশে চিকিৎসা নেওয়ার পর সোমবার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।


