হাদির হত্যাকারীরাই প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
গণমাধ্যমের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীরা প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের ওপরে হামলা করেছে। যারা হামলা করে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে।’
সোমবার বিচার বিভাগ, বিচারপতি ও আইনজীবীদের নিয়ে আইন উপদেষ্টার অসম্মানজনক ও অপেশাদার বক্তব্যের প্রতিবাদে আয়োজিত এক আইনজীবী সমাবেশে এসব কথা বলেন ব্যারিস্টার খোকন।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে সাধারণ আইনজীবী সমাজের ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আকাশ অথবা মাটির নিচে যেখানে থাকুক, খুনিদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।’
বিচার বিভাগ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার খোকন বলেন, ‘বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত হয়ে বিচার করবে–আলাদা সচিবালয়ের উদ্দেশ্য হলো এটা। এখনো যদি আইন মন্ত্রণালয় মুখ দিয়ে আঘাত করে, সেটা ঠিক না। আমি মনে করি আইন উপদেষ্টা বিচার বিভাগ নিয়ে অযাচিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইন উপদেষ্টা সম্মানিত মানুষ। তাকে বলব, এখন বিচার বিভাগের আলাদা সচিবালয় হয়েছে। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। তাই আদালত অবমাননা হয়–এমন বক্তব্য বিচার বিভাগ নিয়ে দেওয়া উচিত নয়।’
এ সময় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল বলেন, ‘সেদিন আইন উপদেষ্টা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা শেষে সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, উচ্চ আদালত থেকে জামিন কম দেওয়ার কথা বলেছি। আইন উপদেষ্টার এই বক্তব্য আদালত অবমাননার শামিল।’
‘এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ করেছেন। আইন উপদেষ্টার এই বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। বিচার বিভাগ নিয়ে কথা বলার সময় আইন উপদেষ্টাকে সতর্ক থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আসামি ভয়ংকর সন্ত্রাসী, এই ধরনের তথ্য কাগজপত্রে যদি না থাকে; আমরা কীভাবে জানব এই আসামি মুক্তি পেয়ে খুনি হবেন অথবা মসজিদের ইমাম হবেন? বিচার বিভাগকে কটাক্ষ না করে আপনি আপনার ঘর সামলান। অবিলম্বে আপনার বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি অন্যথায় কঠিন কঠোর কর্মসূচি দেব আমরা।’
বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মিলন, হুমায়ুন কবির মঞ্জু, গাজী তৌহিদুল ইসলাম, মির্জা আল মাহমুদ, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, আব্দুল লতিফ ও মাকসুদ উল্লাহ।
সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন সামসুল ইসলাম মুকুল।
গত ১৮ ডিসেম্বর বিদায়ী প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে দেখা শেষে হাইকোর্ট থেকে ‘অস্বাভাবিক’ জামিন দেওয়া হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।


