ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরে ঢাকার ফার্মগেটে ডেইলি স্টার ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে দেওয়া আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ভবনের ছাদে আটকা পড়া সংবাদকর্মীরা নিরাপদ আছে বলে নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস।
রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান ফায়ার সার্ভিস মিডিয়া সেলের ওয়ার হাউজ ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম।
টাইমস অব বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘আমরা সাংবাদিকদের উদ্ধার করতে পারিনি। তবে আগুন যেহেতু নিয়ন্ত্রণে আছে চিন্তার কারণ নাই। আগুন নির্বাপণের পরে আমরা তাদের উদ্ধার করতে যাব।’ সাংবাদিকদের আতঙ্কিত না হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ হামলা চালানোর পর ডেইলি স্টারের দিকে যায়। হামলাকারীরা ডেইলি স্টার ও ভারতবিরোধী নানা স্লোগান দেন। ভাঙচুর করেন ভবনের শাটার, কাঁচ।
এ সময় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের বাধা দিতে গেলে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেলও ছোঁড়ে তারা, ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেয়। এতে ভবনের ছাদে আটকা পড়েন প্রায় ৩০ জন সংবাদকর্মী।
এসময় প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের আগুন নেভাতে আসা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আটকে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। টাইমস অব বাংলাদেশকে এ তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের স্টেশন অফিসার তালহা বিন জসিম।
পরে আনোয়ারুল ইসলাম টাইমসকে জানান, আগুন নেভাতে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। বিক্ষুব্ধ জনতার জন্য সংবাদকর্মীদের উদ্ধার কাজে বেগ পোহাতে হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার নাজিম উদ্দীন জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের এখনো নিচে নামানো হয়নি। তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে এখনো আমরা সাংবাদিকদের নিচে নিয়ে আসতে পারিনি। তবে তারা সবাই নিরাপদে আছেন। আমরা ধোঁয়া কমার অপেক্ষা করছি।’
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টায় সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওসমান হাদির মৃত্যু হয়।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। পাশের একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে অটোরিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে।


