ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশ এখন গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে।
এই পরিস্থিতিতে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী সব ব্যক্তি ও সংগঠনের ঐক্য জরুরি হয়ে উঠেছে বলে জানান তিনি।
শুক্রবার বিকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন।
এর আগে, এদিন দুপুরে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার পর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকার বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি।
তারেক রহমান বলেন, ‘গত এক বছরের বিভিন্ন সময়ে নানা ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়েছে যে আসন্ন নির্বাচন কোনোভাবেই নির্বিঘ্নভাবে হতে দেওয়া হবে না।’
হাদির ওপর এ হামলা ষড়যন্ত্রের অংশ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘যারা এই দেশের স্বাধীনতাকে ধ্বংস করতে চায়, এ দেশের সার্বভৌমত্বকে ধ্বংস করে, এই দেশের স্থিতিশীলতাকে ধ্বংস করতে চায়, তারা তাদের ষড়যন্ত্র যে শুরু করে দিয়েছে, আজকে ওসমান হাদির ঘটনা দিয়ে তা প্রমাণিত হয়েছে।’
কিছুদিন আগে চট্টগ্রামে একইভাবে বিএনপির আরেক প্রার্থীকে গুলি করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এই প্রেক্ষাপটে জাতীয়তাবাদী ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যারা দেশের অস্তিত্বে, সার্বভৌমত্বে এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল চেতনায় বিশ্বাস করে, দলীয় পরিচয় যাই হোক না কেন, সবার আগে দেশকে ভাবতে হবে। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন ঐক্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
কোনো বিভ্রান্তি বা অপপ্রচার যাতে পরিস্থিতিকে আরও জটিল না করে তোলে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকারও নির্দেশ দেন তিনি।
তারেক রহমান ঘোষণা করেন, প্রশাসন চাইলে বিএনপি এই ঘটনার তদন্তে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। প্রকৃত হামলাকারী এবং এই ঘটনার নেপথ্যকারীদের আইনের আওতায় আনতে তিনি নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
ছাত্রদলের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে এবং মানুষের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য সংগঠনের প্রত্যেকটি স্তরে সতর্কতা ও সক্রিয়তা বজায় রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে এবং যেকোনো মূল্যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং যেকোনো মূল্যে এই দেশের মানুষ যাতে তাদের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে পারে, তার জন্য আমাদের সদা সর্বদা সচেষ্ট এবং সতর্ক থাকতে হবে।’
এদিকে, গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে রাজধানীর এভারকেয়ারে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, ওসমান হাদির বিষয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘রোগীকে যখন হাসপাতালে আনা হয় তখন থেকেই অবস্থা ক্রিটিক্যাল ছিল। অপারেশন থিয়েটারে আছে। তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। গুলিটি তার ব্রেইনের ভেতরে আছে।’
তিনি ইনকিলাব মঞ্চ নামে একটি সংগঠনের মুখপাত্র। তার পুরো নাম শরিফ ওসমান হাদি হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ওসমান হাদি নামে পরিচিত।


