ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, হেলমেট ও ভুয়া নম্বর প্লেট উদ্ধার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।
বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
এতে বলা হয়, রোববার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার শেরে বাংলা নগর থানার পশ্চিম আগারগাঁওয়ের বনলতা আবাসিক এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব আলামত উদ্ধার করা হয়।
হাদির ওপর হামলার প্রাথমিক তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সিটিটিসি। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বনলতা আবাসিক এলাকার একটি ভবনের নিচতলার পার্কিং থেকে মোটরসাইকেল ও হেলমেট উদ্ধার করেন তারা।
এ ছাড়া মোটরসাইকেলের ভুয়া নম্বর প্লেটটি পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ম্যানহোলের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়।

সিটিটিসির তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিকানা শনাক্তে একাধিক হাতবদলের তথ্য পাওয়া যায়। সংগঠনটি জানায়, মোটরসাইকেলটির প্রথম মালিক ছিলেন আব্দুর রহমান। পরবর্তীতে শহিদুল, রাসেল, মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে ওবায়দুল ইসলাম, আনারুল এবং আবারও ওবায়দুল হয়ে শুভ নামে এক ব্যক্তির কাছে মোটরসাইকেলটি বিক্রি করা হয়।
মোট আটজনের হাতবদলের পর সবশেষ মাইনুদ্দিন ইসলামের নামে মোটরসাইকেলটি কেনা হয়। জানা যায়, হাদির ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সালের সহযোগী মো. কবিরের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এ মোটরসাইকেল কেনা হয়।
এর আগে, ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার বিজয়নগরের বক্স-কালভার্ট রোডে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি তাকে গুলি করে পালিয়ে যান।
এতে হাদির মাথায় গুলি লাগে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরিবারের অনুরোধ আমলে নিয়ে সরকারের সহযোগিতায় হাদির উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতে গত সোমবার দুপুরে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।
এরইমধ্যে আইনশঙ্খলা বাহিনী গুলি চালানোর সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দু’জনকে শনাক্ত করেছে। তাদের মধ্যে একজন-প্রধান সন্দেহভাজন শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এবং অপরজন বাইক চালক আলমগীর হোসেন।


