নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজের পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করে বিএনপির সমাবেশ আয়োজনের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, রাজনৈতিক সমাবেশের কারণে পেছানো হয়েছে। তবে জেলা রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। সমাবেশ ভার্চ্যুয়ালি যোগ দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার বিকালে তার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
জানা গেছে, হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা ও দ্বাদশ শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষা সোমবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ধানের শীষের প্রার্থীর উদ্যোগে কলেজের মাঠে তারেক রহমানের একটি ভার্চ্যুয়াল সভার আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কলেজ কর্তৃপক্ষ এই পরীক্ষা স্থগিত করে তা মঙ্গলবার নির্ধারণ করে।
পরীক্ষায় একাদশ শ্রেণির পৌরনীতি ও সুশাসন, ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা, জীব বিজ্ঞান ১ম পত্র এবং দ্বাদশ শ্রেণির একই বিষয় দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রথম বর্ষের ব্যবসা শাখার এক শিক্ষার্থী জানান, রোববার আমাদের পরীক্ষা শুরু হওয়ার আধা ঘণ্টা পর এক শিক্ষক এসে জানালেন, রাজনৈতিক কারণে সোমবারের পরীক্ষা মঙ্গলবার হবে।
স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, ‘রাজনীতি যদি হয় জনগণের জন্য, তবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনকে বাধাগ্রস্ত করে কেন এই আয়োজন। কলেজ মাঠের পরিবর্তে বিকল্প কোনো স্থানে প্রোগ্রাম করা যেত। আমরা চাই ছাত্রছাত্রীরা যেন কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা ছাড়াই পরীক্ষা দিতে পারে।’
এ বিষয়ে হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইফুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একটি পরীক্ষা পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে এটা কী কারণে পরিবর্তন হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানাননি।
হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ফয়সাল বিন দিদার বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমাবেশের অনুমোদন দিলে আমরা পরীক্ষা পিছিয়ে নিয়েছি। কারণ, সমাবেশের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না।’
পরীক্ষাসংক্রান্ত ও সমাবেশের অনুমোদন বিষয়ে নোয়াখালী জেলা রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সমাবেশের অনুমোদন বা পরীক্ষা বাতিলসংক্রান্ত কোনো বিষয় তিনি জানেন না।
এ দিকে আগামী ২৭ জানুয়ারি সকাল ১০টায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে একই মাঠে সমাবেশের শিডিউল ছিল। এনসিপির এক নেতা বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ এই শিডিউল সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও ২৬ তারিখের পরীক্ষা পিছিয়ে ২৭ তারিখে নেওয়ায় হয়েছে।
পাল্টাপাল্টি সমাবেশে শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। একই স্থানে রাজনৈতিক সমাবেশ এবং পরীক্ষা চললে শিক্ষার্থীদের পক্ষে নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।


