২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালে চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ মঙ্গলবার দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
সোমবার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল ৩০ জুন আদেশ ঘোষণার দিন ধার্য করেন।
আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মিজানুর রহমান ও আবদুল কাইয়ুম। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন, আবুল হাসান, ইশরাত জাহান ও মোহাম্মদ এনাম শুনানি করেন।
শুনানিতে আসামিপক্ষ দাবি করে, মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মতো পর্যাপ্ত উপাদান নেই এবং তদন্তও যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি। অন্যদিকে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ আদালতে বলেন, অভিযোগ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক উপাদান রয়েছে। তাই আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান তিনি।
মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচ এম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।
এ মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামি হলেন সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফিরোজ এবং দেবাশীষ পাল দেবু। মামলার নথি অনুযায়ী, সব আসামিই আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
তদন্ত সংস্থা গত ২ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেয়। পরে তা যাচাই-বাছাই শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে দাখিল করা হয়।
মামলায় মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে মো. ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে ১৮ জুলাই তানভীর সিদ্দিকী, মো. সাইমন ও হৃদয় চন্দ্রকে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তৃতীয় অভিযোগে একই ঘটনাপ্রবাহে শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।


