জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আদেশ দেয়।
যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তারা হলেন, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, দেবাশীষ পাল দেবু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে। আসামিরা সবাই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, মোহাম্মদ ফিরোজ, আজিজুর রহমান ও তৌহিদুল ইসলাম। কারাগারে থাকা চার আসামিকে আগামী ১৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
পরে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘দীর্ঘ তদন্ত শেষে আমরা আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ দাখিল করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা চার্জগুলো আমরা যথাযথভাবে ট্রাইব্যুনালে প্রতিষ্ঠা করতে পারব এবং সেগুলো প্রমাণ করতে সক্ষম হবো।
এ মামলায় প্রথম অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায় আনা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে তানভীর সিদ্দিকী, সাইমুন ওরফে মাহিন ও হৃদয় চন্দ্রকে হত্যা করার কথা বলা হয়েছে। তৃতীয় অভিযোগে জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা মিনু, আবদুল্লাহ লুবাবসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার কথা উল্লেখ করা হয়। এই তিনটিতেই আসামিদের বিরুদ্ধে গুলি করে হত্যা, নির্দেশ, উসকানি ও সহায়তার অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।
মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষে ২ এপ্রিল প্রসিকিউশন কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। সেটি যাচাই-বাছাই শেষে ৫ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে দাখিল করে প্রসিকিউশন।


