ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সহায়তায় একটি বিশেষ অভিযান শুরু করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে এই উদ্যোগকে তিনি উল্লেখ করেছেন ‘মানবিক পদক্ষেপ’ হিসেবে।
রয়টার্সের খবরে জানা যায়, ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ প্রণালীতে বহু জাহাজ আটকে আছে। এসব জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ করে দিতেই যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, এই অভিযানে কোনো ধরনের বাধা দিলে তা ‘কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।’
অভিযানে প্রায় ১৫ হাজার সেনা সদস্য, গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং শতাধিক যুদ্ধবিমান অংশ নেবে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।
বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন জাহাজে প্রায় ২০ হাজার নাবিক আটকে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় তাদের খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে।
বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহন হয়। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জেরে এই পথে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ায় ইতোমধ্যেই জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে।
এদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের ‘খুবই ইতিবাচক’ আলোচনা চলছে, যা ‘সবার জন্য ভালো কিছুতে’ গড়াতে পারে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো তাদের ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাবের জবাব যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে, যা এখনো পর্যালোচনায় রয়েছে। ওই প্রস্তাবে ইরানের সীমান্তের কাছে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানসহ সব ধরনের শত্রুতা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে ট্রাম্প ইসরায়েলের কান নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, গত ৪৭ বছরে ‘মানবতা ও বিশ্বের বিরুদ্ধে’ ইরানের কর্মকাণ্ডের জন্য তারা ‘যথেষ্ট মূল্য না দেওয়া পর্যন্ত’ কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং এ নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না।


