বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়েছে। যদিও ইরান–ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ঘিরে আগে কিছুটা আশা তৈরি হয়েছিল।
জাহাজের ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান জানান, প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছানোর পরও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) থেকে অনুমতি না পাওয়ায় তিনি যাত্রা স্থগিত করেছেন।
শুক্রবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে হোয়াটসঅ্যাপে টাইমস অব বাংলাদেশকে তিনি জানান, জাহাজটি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকর বন্দরের বাইরে নোঙর করা রয়েছে, যা হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৩৬ নটিক্যাল মাইল দূরে।
তিনি বলেন, ‘আইআরজিসি অনুমতি দেয়নি। আমরা প্রণালি পুনরায় চালু হওয়া বা অনুমতির জন্য অপেক্ষা করছি। এখানে আরও অনেক মালবাহী জাহাজ নোঙর করে আছে, যারা পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, একদিন আগে জাহাজটি প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় নৌ চলাচল আবারও বন্ধ হয়ে যায়। যুদ্ধবিরতির স্বল্প সময়ে ১৭টি জাহাজ পার হতে পারলেও, ইসরায়েলের লেবাননে হামলাসহ নতুন অস্থিরতায় আবারও শিপিং কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালির উদ্দেশে রওনা দেয়। সৌদি আরব থেকে আনা ফসফেট সার বহনকারী জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল এবং বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে প্রণালি অতিক্রম করার কথা ছিল। কিন্তু প্রণালিতে পৌঁছানোর আগেই কর্তৃপক্ষ আবারও নৌ চলাচল বন্ধ করে দেয়। জাহাজটিতে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন।
এর আগে, জাহাজটি কাতার থেকে স্টিল কয়েল পরিবহন শেষে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে পৌঁছায়। পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টা হামলা ও উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।
বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, জেবেল আলি বন্দরে মাল খালাসের সময় কাছাকাছি একটি তেল ডিপোতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। পরবর্তীতে নিরাপত্তার কারণে জাহাজটি প্রথমে হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৬০ মাইল দূরে নোঙর করে এবং পরে ঝুঁকি বিবেচনায় শারজাহতে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এক পর্যায়ে বাংলার জয়যাত্রাসহ বাংলাদেশের ছয়টি জাহাজকে ইরানি কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিয়েছে বলে জানা যায়। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ পায়নি বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন।


