রংপুরের হাসপাতালগুলোতে হামের উপস্বর্গ নিয়ে ক্রমাগত বাড়ছে রোগী ভর্তির সংখ্যা। এখন পর্যন্ত ১১ জনের হাম শনাক্ত হলেও কোন মৃত্যুর খবর পাওয়া যায় নি।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯ টা পর্যন্ত রংপুর ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজসহ বিভাগের জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগ ও ওয়ার্ডে অন্তত ৪৮ জন ভর্তি হয়েছেন। যা এর আগের ২৪ ঘন্টার চেয়ে পাঁচজন বেশি।
হাম উপসর্গ নিয়ে এই বিভাগে এখন পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ৩৮১ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৪২ জন, ভর্তি আছেন ৩৯ জন।
এখনো ভর্তি রোগীদের মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নয়জন ও অন্য হাসপাতালে দুইজন, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনজন ও অন্য হাসপাতালে তিন, লালমনিরহাটে তিন, নীলফামারীতে নয়, গাইবান্ধায় সাত ও ঠাঁকুরগাওয়ে তিনজন।
অন্যদিকে গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ১১৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে এখন পর্যন্ত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৩ জনের। যার মধ্যে নীলফামারীতে পাঁচ জন, দিনাজপুরে তিনজন, ঠাকুরগাও ও রংপুরে দুইজন করে এবং কুড়িগ্রামে একজন। তবে এই বিভাগে এখনো কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে গত ২৪ ঘন্টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন একজন। হাসাপাতালে বর্তমানে ভর্তি আছেন ৯ জন। চিকিৎসা নিয়েছে বাড়ি ফিরেছেন ৩৫ জন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হা্ম চিকিৎসায় গঠিন বিশেষ কমিটির ফোকাল পারসন ডা. আনম তানভীর চৌধুরী জানান, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক না হলেও উপস্বর্গ নিয়ে রোগী ভর্তির সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গওসুল আজিম চৌধুরী জানান, ৩১ মার্চ থেকে শুক্রবার সকাল ৯ টা পর্যন্ত বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপস্বর্গ নিয়ে ৩৮১ জন হাম উপস্বর্গ নিয়ে শিশু ভর্তি হয়ে হলেও ৩৪২জন পরিপূর্ণ সুস্থ্য হয়ে ফিরে গেছেন। যারা ভর্তি আছেন, তাদের চিকিৎসা চলছে। নমুনা পরীক্ষায় যারা শনাক্ত হয়েছেন তারাও ভালো আছেন এবং চিকিৎসা চলছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এই বিভাগের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে হাম কর্নার এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠকর্মীদের এলার্ট করে রাখা হয়েছে।’


