স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ হতে পারলেও প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ‘ডিভোর্স’ বা বিচ্ছেদ হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ।
সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সিরাজ বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশ চাইলেও একে অপরকে অস্বীকার করতে পারবে না। প্রতিবেশীকে কখনো অস্বীকার করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ক্ষণস্থায়ী হতে পারে এবং তাদের মধ্যে ডিভোর্সও হতে পারে, কিন্তু ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিবেশী সম্পর্কের ডিভোর্স হতে পারে না।’
দুই দেশের জনগণের স্বার্থেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে টিকে থাকা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘নতুন হাইকমিশনার বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে কাব্যিক ভাষায় কথা বলেছেন।’
‘হাইকমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী দুই দেশ একই আকাশ ও একই বাতাসের নিচে অবস্থান করায় পারস্পরিক বন্ধুত্ব প্রয়োজন হলেও এরপর বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ভারতবিরোধী প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক দেখা গেছে।’ কেন এমন প্রতিক্রিয়া তৈরি হলো–সেই প্রশ্নও তোলেন জিএম সিরাজ।
ভারতের ‘পুশইন’ বা ‘পুশব্যাক’ প্রসঙ্গে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, আজ যে ‘পুশইন’–ভারতের ভাষায় ‘পুশব্যাক’হচ্ছে, সেটা বন্ধ হতে হবে। তিনি ভারতের বর্তমান সরকারের প্রতি সবিনয় অনুরোধ জানিয়ে ভারতবিরোধিতা বা বাংলাদেশবিরোধিতা না বাড়িয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও মানুষের হৃদয় জয়ের মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে হৃদয়ের সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে সীমান্তপথে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জিএম সিরাজ বলেন, ‘পুশইনের’ চেয়েও বড় ব্যাধি হলো মাদক। এই সর্বগ্রাসী মাদক যুবসমাজ, শিক্ষার্থী এবং সামগ্রিকভাবে সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে তিনি মূলত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও জনসম্পৃক্ততার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন।


