এমিরেটসে প্রিমিয়ার লিগে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মুখোমুখি হবেন মিকেল আরতেতা ও জাবি আলোনসো। রোববারের ম্যাচে আর্সেনাল ও চেলসি দুদলই মৌসুমের নিখুঁত শুরু ধরে রাখতে চাইবে।
দুজনেরই বয়স ৪৪ বছর। স্পেনের বাস্ক অঞ্চলে বেড়ে ওঠা আরতেতা ও আলোনসো খেলোয়াড়ি জীবন থেকেই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তবে আর্সেনালের মাঠে মুখোমুখি হলে বন্ধুত্বের জায়গা নেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। দুই ম্যাচে দুদলেরই পয়েন্ট ৬।
আলোনসোকে নিয়ে আরতেতা বলেন, ‘তার জন্য আমি সত্যিই আনন্দিত। এটা অবিশ্বাস্য। আমাদের একসঙ্গে পথচলার ইতিহাস আছে। এত বড় পর্যায়ে একে অপরের মুখোমুখি হওয়া এবং দেশের শীর্ষ ক্লাবের দায়িত্ব নেওয়া সত্যিই দারুণ অভিজ্ঞতা।’
শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে আর্সেনালের শুরুটা হয়েছে বেশ গোছানো। প্রথম ম্যাচে কভেন্ট্রি সিটিকে ৩-০ গোলে হারানোর পর অ্যাস্টন ভিলার মাঠে তারা জিতেছে ১-০ গোলে।
রক্ষণেও দুর্দান্ত আর্সেনাল। শেষ সাত প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচের ছয়টিতে গোল হজম করেনি তারা। চলতি মৌসুমের প্রথম দুই ম্যাচে গোলরক্ষক ডেভিড রায়ার বিপক্ষে লক্ষ্যে ছিল মাত্র একটি শট।
আলোনসোর অধীনে ভিন্ন কৌশলে শুরু করেছে চেলসি। ফুলহাম ও ব্রাইটনের বিপক্ষে জয়ে তারা করেছে সাত গোল। জোয়াও পেদ্রো, কোল পালমার ও মরগান রজার্স মিলে করেছেন পাঁচটি।
তবে চেলসির রক্ষণে দুর্বলতা আছে। দুই ম্যাচে তারা পাঁচ গোল হজম করেছে। ব্রাইটনের বিপক্ষে মাত্র ২৬ শতাংশ বল দখলে রেখেও দ্রুত আক্রমণে উঠে তারা সুযোগ তৈরি করেছে।
চেলসির খেলার গতি বদলানোর ক্ষমতাকে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন আরতেতা।
তিনি বলেন, ‘খেলার পরিস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা যে দুটি ম্যাচ খেলেছে, দুটিতেই খুব দ্রুত গোল করেছে। এতে ম্যাচের গতি ও নিয়ন্ত্রণ বদলে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে তারা বিভিন্নভাবে খেলতে পারে। আলোনসোও বিভিন্ন কৌশলে দলকে খেলাতে পারেন। এখন পর্যন্ত তিনি খুবই সফল কোচ।’
বল দখলে রেখে নিয়ন্ত্রিত আক্রমণ গড়া আর্সেনালের কৌশল এবার সরাসরি আক্রমণপ্রবণ চেলসির বিপক্ষে পরীক্ষা হবে।
সাম্প্রতিক রেকর্ড অবশ্য আর্সেনালের পক্ষে। প্রিমিয়ার লিগে শেষ নয় ম্যাচে চেলসি তাদের হারাতে পারেনি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ১১ ম্যাচেও আর্সেনালের বিপক্ষে জয় নেই চেলসির।
তবে আলোনসো আসার পর চেলসিকে ঘিরে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দুই ম্যাচে দুই জয় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। আক্রমণে সাত গোলও নতুন কোচের পরিকল্পনার প্রাথমিক সাফল্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আর্সেনালের জন্য রোববারের ম্যাচটি প্রথম দুই ম্যাচের তুলনায় কঠিন পরীক্ষা। একই সঙ্গে শক্তিশালী রক্ষণ ধরে রাখারও সুযোগ।


