আগামী বৃহস্পতিবারে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার ম্যাচে চলতি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচটি খেলতে পারেন নেইমার। কাফ ইনজুরির অর্থাৎ পায়ের পেশির আঘাতের কারণে গ্রুপ পর্বের শুরু থেকে মাঠের বাইরে থাকা এই ফরোয়ার্ডকে মাঠে নামানোর মতো ফিটনেস আছে কি না, তা নিয়ে এখন হিসাব নিকাশ করছেন কার্লো আনচেলত্তি।
জাতীয় দল থেকে প্রায় তিন বছর দূরে থাকার পর আনচেলত্তির দলে ডাক পাওয়া ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা মরক্কো এবং হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রথম দুটি ম্যাচ মিস করেছেন। তার এই অনুপস্থিতি এমন একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে কৌতুহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ক্যারিয়ার একদিকে চোখধাঁধানো প্রতিভা আর অন্যদিকে যেকোনো আশাবাদী সমর্থককেও শঙ্কিত করার মতো ইনজুরির এক বিশাল খতিয়ানে ভরা।
নেইমার সর্বশেষ ২০২৩ সালে ব্রাজিলের হয়ে খেলেছিলেন, যেখানে উরুগুয়ের বিপক্ষে একটি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে তিনি গুরুতর হাঁটুতে আঘাত পেয়েছিলেন। এরপর সৌদি আরব এবং তার শৈশবের ক্লাব সান্তোসে, যেখানে তিনি গত বছর ক্যারিয়ার পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টায় ফিরেছিলেন, কাটানো সময়ে একের পর এক ইনজুরির কারণে তাকে টানা ৬৫০ দিনেরও বেশি সময় মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে। তার সেই ফিরে আসার লড়াইটিও ছিল চড়াই উতরাইয়ে ভরা, যেখানে নতুন ইনজুরি এবং মাঠের বাইরের নতুন সব বিতর্ক তার খেলার ছন্দ ও ধার খোঁজার চেষ্টাকে বারবার ব্যাহত করেছে।
চলতি বছর তিনি ১৫টি ম্যাচে অংশ নিয়ে ৬টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে হাঁটুর অস্ত্রোপচার থেকে সেরে ওঠার পর কখনোই টানা ৪টির বেশি ম্যাচ তিনি খেলতে পারেননি।
মরক্কো এবং হাইতির বিপক্ষে ম্যাচগুলোতে বাইরে থাকার পর, নেইমার গত সপ্তাহে পুরোদমে অনুশীলন শুরু করেছেন। গত বছর রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ব্রাজিলের কোচের দায়িত্ব নেওয়া আনচেলত্তির অধীনে সোমবারে তিনি তার প্রথম কৌশলগত সেশনে অংশ নেন।
সতীর্থ গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি জানিয়েছেন যে নেইমারকে পুরোপুরি প্রস্তুত দেখাচ্ছে। সোমবারে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্টিনেল্লি বলেন, ‘ও খুব উচ্চমানের পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে এবং আজকের অনুশীলন সেশনে ওর তীব্রতা বা চেষ্টা স্পষ্ট ছিল। আমাদের সাথে থাকার জন্য ও কতটা মুখিয়ে আছে তা আপনি দেখতেই পাচ্ছেন, আর ওর মান নিয়ে তো কোনো প্রশ্নই নেই। ও খেলবে কি না তা কোচের সিদ্ধান্তের বিষয়, তবে আমার মনে হয় ও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে।’
সি গ্রুপের গোল ব্যবধানে মরক্কোর সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিল। অন্যদিকে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে আছে স্কটল্যান্ড। মরক্কোর বিপক্ষে প্রথমার্ধের নিষ্প্রাণ খেলার পর ১-১ গোলে ড্র করা ব্রাজিল অবশ্য ঘুরে দাঁড়িয়ে হাইতিকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় বা ড্র পেলে এবং মরক্কো যদি হাইতির বিপক্ষে জিততে ব্যর্থ হয়, তবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত করবে সেলেসাওরা।
ডান উইংয়ে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে রাফিনহা ছিটকে যাওয়ায় খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়েও মধুর সমস্যায় পড়েছেন আনচেলত্তি। হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে বোর্নমাউথের তরুণ রেয়ান তার জায়গায় খেললেও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গের লুইজ হেনরিকের শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।


