এক মাসের ছুটি শেষে স্ত্রী ও দুই সন্তানের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কর্মস্থল সৌদি আরবে ফিরেছিলেন শাহেদ আহমেদ আশিক (৩৫)। কিন্তু পরিবারের সঙ্গে সেটিই ছিল তার শেষ দেখা।
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তার মৃত্যুর খবরে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা পশ্চিমপাড়ার বাড়িতে নেমে এসেছে আহাজারি। স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা স্ত্রী, বাবার পথচেয়ে নিস্তব্ধ দুই শিশুসন্তান।
নিহত শাহেদ বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা পশ্চিমপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম মিঠুর ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর ধরে তিনি সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। তার বাবা রফিকুল ইসলামও ২৭ বছর ধরে সেখানে প্রবাসী হিসেবে রয়েছেন। তিন মাস আগে তার মা শাহেরা আক্তার ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যান।
শাহেদের ছোট ভাই মাসুম রানা জানিয়েছেন, এক মাসের ছুটি শেষে গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সৌদি আরবের উদ্দেশে বাড়ি থেকে রওনা হন শাহেদ। রিয়াদ হয়ে তার কর্মস্থল জেদ্দায় যাওয়ার কথা ছিল। বিমান রিয়াদে পৌঁছানোর পর স্ত্রীর সঙ্গে শাহেদের শেষ কথা হয়। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, রিয়াদে পৌঁছাতে পেরেছেন এবং সেখান থেকে জেদ্দায় পৌঁছাতে আর দেড় ঘণ্টার মতো সময় লাগবে; পৌঁছানোর পর আবার ফোন করবেন। তবে এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সৌদি আরবের বর্তমান পরিস্থিতির খবর পেয়ে চাকরি রক্ষায় ছুটি শেষেই কর্মস্থলে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শাহেদ। ওমরাহ পালনে যাওয়া মা-বাবার সঙ্গেও সেখানে তার দেখা করার কথা ছিল। কিন্তু সেই সাক্ষাৎ আর হয়ে ওঠেনি।
উপজেলা প্রশাসন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকালে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় হুথি বিদ্রোহীদের একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অন্তত ১২ জন নিহত হন এবং অনেকে আহত হন। এই হামলায় শাহেদ আহমেদ আশিক ও কুমিল্লার মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি (৪৫) নামে দুই বাংলাদেশি নিহত হন। এ ছাড়া আরও চারজন বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার সন্ধ্যায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তাইফুর রহমান প্রবাসীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তারা শাহেদের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে ইতোমধ্যেই নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন। আইনি পরবর্তী প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে সংকটে পড়েছে পুরো পরিবার। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা শাহেদের শিশুসন্তানদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় সরকারি সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।


