সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় এক শিক্ষক ও দুই ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে শ্যামনগর থানায় ধর্ষণ ও সাইবার আইনে এ মামলা করেন ভুক্তভোগীর নানি।
মামলার আসামিরা হলেন শ্যামনগর পৌরসভার গুমানতলী কামিল মাদ্রাসার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক নুর আলম (৩৬), শিক্ষার্থী হযরত আলী (১৭) ও আবু হাসান (১৫)।
মামলায় বাদী অভিযোগ করেছেন, হযরত ও আবু হাসান গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিশুটিকে ধর্ষণ করে আসছিল। পরে প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে শিক্ষক নুর আলমও শিশুটিকে ধর্ষণ করেন।
জানা গেছে, শিশুটির বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর সে নানির বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। তার মা সৌদি আরবে থাকেন।
মামলার এজাহার ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ করেন তার এক আত্মীয়। এরপর গত ১০ অক্টোবর তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসক জানান, শিশুটি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
বাদীর অভিযোগ, হযরত ও আবু হাসান শিশুটির ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে তাদের বাড়িতে আসত। একপর্যায়ে গোসলের পর পোশাক পরিবর্তনের সময় শিশুটির গোপনে ভিডিও ধারণ করে তারা। পরে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়।
শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, তিন-চার সপ্তাহ আগে প্রাইভেট পড়তে গেলে শিক্ষক নুর আলমও তাকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণ করেন।
এদিকে, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে রয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শিক্ষক নুর আলমের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
গুমানতলী কামিল মাদ্রাসার সুপার সিরাজুল ইসলাম বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, শিশুটির নানি তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে গেছেন। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


