বাজারে এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি নিশ্চিতে জেলা প্রশাসকদের কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশল বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করার ঘটনায় সরকার চুপ থাকবে না বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি জানান, জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে আয়োজিত এক ভার্চ্যুয়াল সভায় এলপিজি সরবরাহ বিঘ্নহীন রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা ও বিভাগীয় কমিশন প্রশাসনকে নিজ নিজ জেলায় কর্মরত সব এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলারদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করতে হবে।
‘ডিলাররা ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছ থেকে ঠিক কী পরিমাণ এলপিজি পাচ্ছেন, তার সঠিক হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিস্তারিত পরিচয় সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
তিনি জানান, অবিলম্বে জেলা পর্যায়ের এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলারদের সঙ্গে সভা করার জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুরো সরবরাহ চ্যানেল অনুসরণ করে তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যাতে মাঠপর্যায়ে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা সম্ভব হয়।
অপারেটর বা ফ্র্যাঞ্চাইজি ডিস্ট্রিবিউটরের দেওয়া তথ্যের সাথে মাঠপর্যায়ের ডিলারদের প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো অসামঞ্জস্য, অস্বাভাবিক ঘাটতি বা অনিয়ম দেখা দিলে জেলা প্রশাসন বিষয়টি বিচার-বিশ্লেষণ করে জ্বালানি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবে।
এ ছাড়া সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করা হলে জেলা প্রশাসকরা আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।
ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান আরও জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্থার ঘটনায় সরকার ব্যবস্থা নেবে।
তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ভিভিআইপি মর্যাদা পাওয়ার কথা সেখানে কোনো ঘাটতি হয়েছে কিনা সরকার নিশ্চয়ই সেটা ক্ষতিয়ে দেখবে।’
‘এর আগেও বিদেশে অভিনেত্রী হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন, তারপর থেকে যে লিগ্যাল প্রসেস শুরু হয়েছে আমি সেটার ব্যাপারে জানি। এ ক্ষেত্রে বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় থাকা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের বলতে চাই তারা যদি এ ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রাখেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না’, হুঁশিয়ার করেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহত করতে খাদ্য মন্ত্রণালয় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।
২০৩০ সালের মধ্যে দেশের খাদ্য সংরক্ষণ বা মজুত করার সক্ষমতা ৬৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা। বর্তমানে দেশে খাদ্য মজুতের সক্ষমতা রয়েছে ২৪ লাখ মেট্রিক টনের একটু বেশি।


