শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মধ্যে সোমবার নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। ক্যাম্পাসে প্রবেশের জন্য জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাদের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
নতুন উপাচার্যকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পাহারা দিয়ে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেছেন—এমন দাবিও নাকচ করেছে সংগঠনটির চুয়েট শাখা। তাদের অভিযোগ, সংগঠনের সুনাম নষ্ট করতে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
বিকাল ৫টার দিকে মুঠোফোনে টাইমস অব বাংলাদেশকে উপাচার্য বলেন, মূলত শিক্ষা কার্যক্রম গুছিয়ে নেওয়া ও শিক্ষাপঞ্জি সংশোধনের জন্য তিনি ক্যাম্পাসে এসেছেন।
উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে নিচতলায় নেমে আসেন শেখ শরীফুল আলম। তিনি বিভিন্ন ব্যাচের প্রতিনিধিদের আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তার আশা, শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে শান্ত হবেন এবং চলমান সংকট সমাধানে আলোচনায় বসবেন।
গত ২১ দিন ধরে দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব বিষয়ের সমাধান করতে হবে। দীর্ঘ আন্দোলনে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
উপাচার্য জানান, অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস বা পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। এরইমধ্যে ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল এবং বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে আসার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষাপঞ্জি গুছিয়ে নেওয়া।’ সব শিক্ষকের অংশগ্রহণে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম আবার শুরু করতে চান তিনি। সম্ভব হলে পূজার ছুটির পর তা শুরু করার ইচ্ছা রয়েছে তার।
ক্যাম্পাসে প্রবেশের জন্য ছাত্রদলের সহায়তা বা আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেন উপাচার্য। তার ভাষ্য, এসব দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
তিনি বলেন, তার গাড়িতে একজন বন্ধু ও একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিলেন। ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় গাড়িতে কিংবা তার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী ছিলেন না।
পাহারা দিয়ে উপাচার্যকে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার ছাত্রদলের
এদিকে নতুন উপাচার্যকে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে বা পাহারা দিয়ে ক্যাম্পাসে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের চুয়েট শাখার সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদও।
টাইমস অব বাংলাদেশকে তিনি বলেন, এসব অভিযোগ বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ছাত্রদলের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে।
চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি বলেন, তার সংগঠন সংকটের শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধান চায়। ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে উপাচার্যের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার আহ্বান জানান তিনি।


