ঢাকায় এক মাসের ব্যবধানে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের দুটি চার্চ ও সেন্ট যোসেফ স্কুলে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় তোলপাড় চলছে। কে বা কারা, কোন উদ্দেশ্যে এই হামলা চালাচ্ছে তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ককটেলের উৎস ও ব্যবহৃত নেটওয়ার্ক শনাক্তে একাধিক সংস্থা কাজ করছে। একই সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যাওয়া দুর্বৃত্তদের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএ) প্রেসিডেন্ট নির্মল রোজারিও টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে এসব স্থাপনায় ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে। যারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তারা চার্চ ও স্কুলে বোমা মারছে। কারা এসব করছে, তা খুঁজে বের করার দায়িত্ব গোয়েন্দাদের।’
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ও অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ওমর ফারুক বলেন, ‘ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে এসব করা হচ্ছে। নির্বাচন সামনে রেখে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে পশ্চিমা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এ ঘটনাগুলো ঘটানো হচ্ছে।’ গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর না হলে সামনে এগুলো আরও বাড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি।
আরও পড়ুন: সেন্ট যোসেফ স্কুলে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জিডি
গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাকরাইলে সেন্ট মেরিস ক্যাথেড্রাল চার্চে ককটেল ছোড়া হয়। একই রাতে আসাদগেটের সেন্ট যোসেফ স্কুলেও ককটেল নিক্ষেপ করা হয়।
এর আগে ৮ অক্টোবর তেজগাঁওয়ের তেজকুনিপাড়ায় রানি জপমালা গির্জার মূল ফটকে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থলের কাছ থেকে আরও দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্ন করার অপচেষ্টা করছে, তাদের চিহ্নিত করা হবে। প্রযুক্তির সহায়তায় একাধিক টিম কাজ করছে। তাদের আটক করা গেলে উদ্দেশ্য জানা যাবে।’
আরও পড়ুন: কাকরাইলের সেন্ট মেরি’স ক্যাথেড্রাল চার্চে ককটেল বিস্ফোরণ
এদিকে, বিসিএ প্রেসিডেন্ট নির্মল রোজারিও ও মহাসচিব হেমন্ত আই কোড়াইয়া এক যৌথ বিবৃতিতে সেন্ট মেরি’স ক্যাথেড্রাল চার্চে ককটেল হামলার ঘটনায় নিন্দা জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ন্যক্কারজনক ঘটনা। চলতি বছরের ৮ অক্টোবর তেজগাঁওয়ের হলি রোজারিও চার্চেও একই ঘটনা ঘটে। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ গির্জায় এমন নাশকতা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রমনা ক্যাথেড্রালে হামলাকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যায় না। এটি ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর সরাসরি আঘাত।
বিসিএ কর্তৃপক্ষ পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ঘটনাগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সব চার্চ, মিশনারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।


