পঞ্চগড়ে জোহরের সুন্নত নামাজ আদায় না করায় ১২ বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার দুপুরে পঞ্চগড় জেলা শহরের লিচুতলা এলাকার আত-তাক্বওয়া ওয়াস্সুন্নাহ হিফজ্ মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
যে শিক্ষকের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার নাম মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান আসাদ। তিনি ওই মাদ্রাসার পরিচালক।
এ ঘটনায় একটি মামলা করেছে ভুক্তভোগী শিশু সাব্বির হোসেন নাসিরের পরিবার। তবে বিষয়টি নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘ভুক্তভোগী জোহরের সুন্নত নামাজ না পড়ায় মাদ্রাসা পরিচালক মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান আসাদ তার মুখে টুপি গুঁজে দিয়ে তাকে মারধর করেন। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগীর মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়।’
শিশু সাব্বিরের মা জানান, তিন মাস আগে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়েছিল নাসিরকে। কিন্তু ভর্তির কয়েকদিনের মধ্যেই প্রথমবারের মতো মারধরের শিকার হয়ে সে বাড়ি চলে যায়। পরে হাফেজ বানানোর উদ্দেশে তাকে আবার মাদ্রাসায় ভর্তি করেন। এবার নির্যাতনের পর তার পুরো শরীর জুড়ে মারধরের চিহ্ন দেখা গেছে।
মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে সাব্বির বলে, ‘আমি সুন্নত নামাজ না পড়ায় অনেক মারধর করেছে। চিৎকার করলে আমার মুখে টুপি গুঁজে আরও বেশি মারধর করে। কয়েকজন ছাত্র আমার দুই হাত ধরে রাখে এবং আসাদ হুজুর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারতে থাকে। আমার গলা থেকে রক্ত বের হয়েছে।’
মামলা করার পর অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিশুটির বাবা বেলাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে তারা মেরে ফেলতে চেয়েছিল। এখনো আসাদ হুজুর আমাদের হুমকি দিচ্ছেন। আমরা এর ন্যায় বিচার চাই।’
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান বলেন, ‘শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। তদন্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


