সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে সুন্দরবনের ‘সক্রিয় ডাকাতদের’ দ্রুত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে, অন্যথায় দস্যুদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানে যাবে বাহিনীটি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানান।
তিনি জানান, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ জেলে, বাওয়ালি, মৌওয়ালি ও বনজীবীদের সুরক্ষায় কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এই অভিযানের ধারাবাহিকতায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ২৬টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও ওয়াকিটকি উদ্ধারসহ ২১ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে এবং দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। বাহিনীর কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিয়মিত অভিযানের মুখে দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে।
এরই ফলশ্রুতিতে সুন্দরবনের কুখ্যাত ‘ছোট সুমন বাহিনী’র প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগীরা কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
গত ১৭ মে রবিবার রাত ১১টায় বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের নন্দবালা খাল সংলগ্ন এলাকায় এই বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদারসহ সর্বমোট সাতজন ডাকাত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২টি দেশীয় পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ গ্রহণ করা হয় বলেও জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
আত্মসমর্পণকারীরা হলেন বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার সুমন হাওলাদার, রবিউল মল্লিক, রফিক শেখ, সিদ্দিক হাওলাদার, গোলাম মল্লিক, ইসমাইল খান এবং রামপাল থানার মাহফুজ মল্লিক। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।
বর্তমানে জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কোস্ট গার্ডের পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম জানান, কোস্ট গার্ডের কার্যকর অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলো অনেকাংশে দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
তবে বাহিনীর এই সাফল্য ও অপরাধ দমন কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে স্থানীয় কিছু স্বার্থান্বেষী ও অসাধু চক্র বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কোনো ধরনের অপপ্রচারই কোস্ট গার্ডের দস্যু দমন প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারবে না।
তিনি সুন্দরবনের সকল সক্রিয় ডাকাতকে দস্যুবৃত্তি পরিহার করে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান।


