সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি হত্যা এবং স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনায় হামে শিশু মৃত্যুর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি।
মঙ্গলবার দুপুর ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে সংগঠনের সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, ‘গত দুই মাসে প্রায় ৪০০-এর অধিক শিশু হাম ও হামের উপসর্গে মারা গেছে। এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’
তিনি রাজনৈতিক কাদা-ছোড়াছুড়ির সমালোচনা করে বলেন, ‘একে অপরকে দোষারোপ করে সমাধান হবে না। আইসিইউ ও অক্সিজেনের অভাবে শিশুরা মারা যাচ্ছে, অথচ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাসপাতালে গিয়ে শিশুদের খোঁজ নিচ্ছেন না।’
টিকা অব্যবস্থাপনার জন্য তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকার, অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান সরকারের আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে দায়ী করে এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
সাংস্কৃতিক সম্পাদক রিফাত রায়হান বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ যে চিকিৎসার নিশ্চয়তা ও সার্বভৌমত্বের স্বপ্ন দেখেছিল, তা হুমকির মুখে।
নাগরিকদের “সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেন” হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি সরকারের কাছে পররাষ্ট্রনীতিতে দেশের স্বার্থ সবার আগে রাখার দাবি জানান।
প্রচার সম্পাদক ও জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী বলেন, ‘নেপালের মতো দেশ ভারতের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারলেও আমাদের সীমান্তে নাগরিকদের হত্যা করা হচ্ছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকার সামরিক ব্যবস্থাকে ভঙ্গুর করে রেখে গেছে। তিনি অবিলম্বে বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে ভারতের সীমান্ত আগ্রাসনের কড়া জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা কেবল বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সীমান্ত হত্যা বন্ধে শক্তিশালী কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের সংকট নিরসনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।


