পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার বড়বাড়ি প্রধান পাড়া সীমান্তে তিন শিশুসহ ১০ জন শূন্যরেখায় আটকা পড়েছেন।
ভারত থেকে পুশইনের শিকার এই ব্যক্তিরা গত ৩৮ ঘণ্টা ধরে খোলা আকাশের নিচে, পানির মধ্যে ফসলি জমির সরু আইলে পড়ে আছেন। ভারত তাদের নিচ্ছে না, বাংলাদেশেও তারা ঢুকতে পারছেন না।
গত শুক্রবার ভোরে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে ঢুকতে পারেননি। এক পাশে বিএসএফ ও অন্য পাশে বিজিবির অবস্থানের মাঝে তারা আটকে আছেন।
শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, মাত্র এক হাত চওড়া আইলের ওপর তারা মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। চারপাশে পানি। শুক্রবার রাতের বৃষ্টিতে পানি আরও বেড়েছে। বসলে পা ডুবে যায়। শোয়ার জন্য কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করতে হচ্ছে। প্রখর রোদের পর তাদের আরও একটি অনিশ্চিত রাত কাটছে। বৃষ্টি হলে আইলটিও ডুবে যেতে পারে। তাদের সেখান থেকে নড়তে দেওয়া হচ্ছে না।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে তিন শিশু, দুই নারী, একজন বৃদ্ধ ও চারজন পুরুষ আছেন। তারা জানান, শুক্রবার ভোর থেকে তারা অনাহারে আছেন। মাঝেমধ্যে জমির পানি খেয়ে তৃষ্ণা মেটাচ্ছেন। বিজিবির দেওয়া শুকনো খাবার ও পানি প্রয়োজনের তুলনায় কম। বিএসএফ কোনো সহায়তা করেনি।
আটকে পড়া এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমরা দুই দিন ধরে রোদ-বৃষ্টি সহ্য করে এখানে পড়ে আছি। খাবার নেই, থাকার জায়গা নেই।’ তিনি দ্রুত সমাধান চান।
শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। বিজিবি ও স্থানীয়রা বাধা দিলে তারা শূন্যরেখায় আটকে যান। এরপর তিন দফা পতাকা বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি।
স্থানীয়দের মধ্যে এই নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, বিএসএফের এই কাজ ঠিক হয়নি। তারা যেহেতু ভারতের শূন্যরেখায় আছেন, তাই তাদের দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়া উচিত।
স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, ‘তারা যেখান থেকেই আসুক, দুই দিন ধরে মানুষকে পানির মধ্যে ফেলে রাখা অমানবিক। দুই দেশের কর্তৃপক্ষের দ্রুত সমাধান করা উচিত।’
হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ-ই নুরে আলম বলেন, ‘বিএসএফের এই কাজ অমানবিক। আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে এভাবে পুশইন করা যায় না। মানুষগুলো খুব কষ্টে আছে। পুশইন ঠেকাতে আমরা স্থানীয়দের নিয়ে তৎপর আছি।’
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিজিবি-বিএসএফ অধিনায়ক পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। আমরা কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি। বিএসএফ পুশইনের কথা অস্বীকার করেছে। তাদের ফেরত নিতেও রাজি হয়নি। তবে ভুক্তভোগীরা স্বীকার করেছেন তাদের ভারত থেকে পার করে দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে আমাদের টহল ও তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি।’


