সিলেটের শাহজালাল মাজারের দানবাক্স দেখভাল করবে জেলা প্রশাসন

সিলেটের শাহজালাল মাজারের দানবাক্স দেখভাল করবে জেলা প্রশাসন
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছে। এখন থেকে এসব দানবাক্স দেখভাল করবে জেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে মাজারের মূল ফটকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছোট-বড় কয়েকটি দানবাক্স বসানো হয়।
একই সঙ্গে মাজারে বিদ্যমান তিনটি বড় দানের ডেগ সিলগালা করে তালাবদ্ধ করা হয়। নতুন দানবাক্সগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বিক তদারকির জন্য মাজার এলাকায় আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার জেলা প্রশাসন হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের বিদ্যমান দানবাক্সগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেয়। ওইদিন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম দুই মাজার পরিদর্শন করে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর মাজার ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরিকল্পনা কমিশনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার অস্পষ্টতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।

পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় সিলেট সিটি কর্পোরেশন, ওয়াক্ফ এস্টেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং মাজার ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন

সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে আয়ের সুসংগঠিত কোনো রেকর্ড বা নির্ভরযোগ্য হিসাবপত্র পাওয়া যায়নি। তাৎক্ষণিকভাবে তারা কোনো পূর্ণাঙ্গ আর্থিক বিবরণীও উপস্থাপন করতে পারেনি।

এ অবস্থায় সভায় মাজারের আয়-ব্যয় ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ, নিয়মিত নিরীক্ষা (অডিট) এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাঈদা পারভীন জানান, মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ওয়াক্ফ এস্টেট ও মাজার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে সংরক্ষণ করবে। পরবর্তীতে এ ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ ও টেকসই করতে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাজারের খাদেম শামুন মাহমুদ খানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad