চট্টগ্রাম নগরের দক্ষিণ আগ্রাবাদ এলাকায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) জমি জামানত দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ৮০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এস আলম গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো ‘মডার্ণ প্রপার্টিজ লিমিটেড’ ও ‘হাসান আবাসন প্রাইভেট লিমিটেড’।
জানা গেছে, ২০০৪ সালে সিডিএ আবাসিক এলাকার তিনটি প্লট বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য ওই দুটি প্রতিষ্ঠানকে লিজ দেয় সিডিএ। কিন্তু নির্ধারিত সময়েও সেখানে কোনো আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়নি। পরিবর্তে প্লটগুলোর জায়গায় সুপারশপ, গাড়ির গ্যারেজ, কার ওয়াশিং সেন্টারসহ বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তোলা হয়।
এরপর জমিগুলো জামানত হিসেবে দেখিয়ে সোনালী ব্যাংক চৌমুহনী শাখা থেকে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ঋণ নেয় প্রতিষ্ঠান দুটি।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার সকালে সিডিএর প্রধান কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালায়। দুদকের উপসহকারী পরিচালক হামেদ রেজার নেতৃত্বে একটি টিম ওই অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান শেষে হামেদ রেজা টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘সিডিএর নথিপত্রে তিনটি প্লটের লিজ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে। তবে নথিতে জনসাধারণের জন্য মাঠ বা খোলা জায়গার কোনো উল্লেখ নেই। এত বছরেও সেখানে আবাসিক ভবন নির্মিত হয়নি কেন, সেটি আমরা যাচাই করছি। পাশাপাশি সোনালী ব্যাংক থেকে এই প্লটগুলো জামানত রেখে কীভাবে ঋণ নেওয়া হলো, তাও তদন্তের আওতায় আনা হবে।’
এদিকে, লিজের নাম করে দখল করা জায়গাগুলো খেলার মাঠ হিসেবে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া, বাণিজ্যিক স্থাপনা উচ্ছেদ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
এর আগে, ৪ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আগ্রাবাদবাসীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ক্রীড়া উপদেষ্টা বরাবর সিডিএর জায়গাটি দখলমুক্ত করে খেলার উপযোগী করার দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ, প্রায় দুই দশক ধরে দখলদারিত্বের কারণে এলাকার শিশু-কিশোরদের আর কোনো খেলাধুলার স্থান অবশিষ্ট নেই।


