খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও আলোচিত ‘আরমান বাহিনীর’ প্রধান মো. আরমান হোসেন দিপু ওরফে শুটার আরমানকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
সোমবার খুলনার রূপসায় র্যাব-৬ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান উপ-অধিনায়ক মেজর মো. নাজমুল ইসলাম।
তিনি বলেন, রোববার ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানা এলাকা থেকে র্যাব-৬ আরমান হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি শটগান এবং ১২ রাউন্ড শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়।
একাধিক হত্যা মামলার আসামি আরমান গত কয়েক দিনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার মুখে খুলনা ছেড়ে পরিবারসহ ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আত্মগোপন করেছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান নিশ্চিত করে রোববার দুপুরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরমান গত ১৭ জুন দৌলতপুর এলাকায় একটি মসজিদে প্রবেশ করে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
বাহিনীটির তথ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে দৌলতপুর, খালিশপুর, আড়ংঘাটা ও আশপাশের এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং সহিংসতার অভিযোগে তিনি একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলেন। তার এই গ্রুপে আট থেকে ১০ জন সদস্য রয়েছে। ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে চাঁদা দাবি করা এবং চাঁদা না দিলে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার মতো অপরাধের সঙ্গে এই বাহিনী জড়িত ছিল।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও অপরাধ সংক্রান্ত রেকর্ড পর্যালোচনা করে আরমানের বিরুদ্ধে খুন ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক চাঞ্চল্যকর মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০২১ সালের ২৫ জানুয়ারিতে মামুন মোল্লা হত্যা মামলা, ২০২২ সালের ৩০ জুনে মারজান মুন্না হত্যা মামলা, কালা রানা হত্যা মামলা, চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারিতে ঘাউরা রাজিব হত্যা, ১৯ মার্চ যুবদল নেতা রাসু হত্যা এবং ২৮ আগস্ট মনিরুল ইসলাম রনি হত্যা মামলা। এসব হত্যার বিভিন্ন ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা ও নাম রয়েছে।
অভিযানটি সফল করতে র্যাব-৬-এর পাশাপাশি খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং জেলা পুলিশ যৌথভাবে সহযোগিতা করেছে। প্রধান এই সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য কমবে বলে আশা প্রকাশ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সঙ্গে ‘আরমান বাহিনীর’ বাকী সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


