ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের এসআইকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এ নিয়ে ১৫ আসামির মধ্যে মোট নয়জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
গত শনিবার রাতে আমিনবাজারের বরদেশী এলাকায় অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে তর্কের জেরে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আলতাফ হোসেনকে (৫৮) পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, র্যাব-১০ এর অভিযানে এজাহারনামীয় চার অভিযুক্ত মুন্সীগঞ্জ এবং র্যাব-৪ এর অভিযানে চারজন এজাহারনামীয় অভিযুক্ত আমিনবাজার থেকে গ্রেপ্তার হন।
মুন্সিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তাররা হলেন- আলাউদ্দিন (২৬), আপন (৩০), জিহাদ (২০) ও ইমরান (২৬)। আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে| তাদের মধ্যে আপন (৩০) সাভার থানার তিনটি মাদক মামলার আসামি।
র্যাব-১০ সদর কোম্পানির চৌকস একটি আভিযানিক দল রোববার রাত সাড়ে ৭টার দিকে গোয়েন্দা নজরদারি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন লঞ্চঘাট এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
এ ছাড়াও একই ঘটনায় র্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমিনবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), মো. রাকিব মিয়া (২৮), ছাব্বির আহম্মেদ (২৪), ও মো. ওয়াসিম (৪০) নামের চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এর আগে রোববার ভোরে মামলার অন্যতম আসামি জুহুরুল ইসলামকে (৩০) আমিনবাজার টেনারি পুলিশ ফাঁড়ি ও সাভার পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, ঘটনার রাতে আনুমানিক সাড়ে ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে একটি অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে এক গ্যারেজ মালিককে মারধরের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদ করেন এসআই আলতাফ হোসেন। এ সময় হামলাকারীদের সঙ্গে তার ও ছেলে আরিফুলের বাকবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এসআই আলতাফ নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে তাকে ধাওয়া করে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি তার ছেলের পোশাক কারখানায় আশ্রয় নেন। পরে হামলাকারীরা আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে এনে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
র্যাবের তথ্যানুযায়ী, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে এসআই আলতাফ ও তার ছেলে আরিফুলকে মারধর করে। এ সময় কারখানার মেশিন ও আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক এসআই আলতাফকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।


