মানিকগঞ্জের সিংগাইরে দীর্ঘদিনের লোডশেডিংয়ের ভোগান্তির মধ্যেই বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল নিয়ে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, মে মাসের তুলনায় জুন মাসে অনেকের বিদ্যুৎ বিল প্রায় দ্বিগুণ এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার পাশাপাশি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসে অভিযোগের ঢল নেমেছে।
সিংগাইর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিস জানায়, উপজেলায় গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার। বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় ৭ থেকে ১০ হাজার গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৪৬ মেগাওয়াট হলেও বরাদ্দ মিলছে মাত্র ২৫ মেগাওয়াট। অনেক সময় সরবরাহ এর চেয়েও কমে যায়। এতে নিয়মিত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গ্রাহকদের দাবি, দিনে-রাতে মিলিয়ে প্রায় অর্ধেক সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এমন পরিস্থিতিতেও জুন মাসে অস্বাভাবিক বিল আসায় সাধারণ মানুষ আর্থিক চাপে পড়েছেন। বিদ্যুতের দাম বাড়ার পর থেকেই তারা সাশ্রয়ীভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সামনে এসএসসি পরীক্ষা থাকায় অভিভাবকেরাও উদ্বিগ্ন।
উপজেলার ধল্লা গ্রামের অটোরিকশাচালক মহিদুর রহমান বলেন, ‘গত মাসে আমার বিদ্যুৎ বিল ছিল ৯০০ টাকা। এবার এসেছে ১ হাজার ৭০০ টাকা।’ মেদুলিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম জানান, মে মাসে তার বিদ্যুৎ বিল ছিল ৪ হাজার টাকা, জুন মাসে তা দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৮ হাজার টাকায়। একই গ্রামে তার বড় ভাইয়ের বিল ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৫৫৬ টাকা। সিংগাইর পৌর সদরের বাসিন্দা সাংবাদিক রকিবুল হাসান বিশ্বাস জানান, মে মাসে তার বিল ছিল ৮৪৭ টাকা, জুন মাসে এসেছে ১ হাজার ৪৫০ টাকা।
সাবেক পৌর কাউন্সিলর রিপন আক্তার ফজলু বলেন, ‘আমার ভবনের ১৭ জন ভাড়াটিয়ার অধিকাংশ দিনের বেলায় বাসায় থাকেন না। তারপরও সবার বিল বেড়েছে। আমার নিজের বিলও ৩ হাজার ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ৮ হাজার টাকা হয়েছে। বিষয়টি জোনাল অফিসের ডিজিএমকে জানিয়েছি।’
কানাইনগর গ্রামের হাবিবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় বিদ্যুৎ যায় না, মাঝেমধ্যে আসে।’
গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে সিংগাইর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘সাধারণত ৩০ দিন পরপর মিটার রিডিং নিয়ে বিল করা হয়। ঈদুল আজহার সাত দিনের ছুটির কারণে মে মাসে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিল প্রস্তুত করা হয়েছিল। এতে মে মাসে কম ইউনিটের বিল হয়েছে। ওই সময়ের বাকি ইউনিট জুন মাসের বিলে যুক্ত হওয়ায় বিল বেশি এসেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত বিদ্যুতের ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রভাবও বিলে পড়েছে। কোথাও মিটার রিডিংয়ে ভুল হলে গ্রাহকের অভিযোগ যাচাই করে দ্রুত সংশোধন করা হবে।’
লোডশেডিং ও অস্বাভাবিক বিলের সংকটে অতিষ্ঠ সিংগাইরের গ্রাহকেরা দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার সঙ্গে প্রকৃত বিল নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।


