চিত্রনায়ক সালমান শাহর অপমৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর দায়ের করা হলো হত্যা মামলা। সোমবার রাতে ঢাকার রমনা থানায় এ মামলা করেন সালমান শাহ’র মামা আলমগীর কুমকুম।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, হত্যা মামলায় প্রথম আসামি হিসেবে নাম রয়েছে সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হকের। এছাড়া ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, চলচ্চিত্রের খলনায়ক ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আলমগীর কুমকুম বলেন, ‘সালমান শাহের বাবা ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তিনি চেষ্টা করেছিলেন অপমৃত্যু মামলা হত্যা মামলায় রূপান্তর করতে। চেষ্টা করতে করতে তিনিও চলে গেছেন। অবশেষে এত বছর পর মামলা হলো।’
সালমান শাহর মৃত্যু আত্মহত্যা নয় বরং ‘হত্যা’ তা প্রমাণিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, সোমবার আদালতের নির্দেশে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে মামলাটি দায়ের করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ জানান, ১১ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় যদি কোনো অভিযুক্ত মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে তাকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘সালমান শাহর মৃত্যুর তদন্তে ‘‘পদে পদে অন্যায় হয়েছে” এবং সংশ্লিষ্ট কেউই দায়িত্বশীল আচরণ করেননি।’
আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পরই মামলার পুনঃতদন্তের নির্দেশ আসে। সালমান শাহের মৃত্যুতে ২০ অক্টোবর হত্যা মামলা করে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয় আদালত।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, এটি আত্মহত্যা।
তবে শুরু থেকেই সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী সেই প্রতিবেদন মানতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি দাবি করেন তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
সেই দাবি থেকেই এবার মামা আলমগীর কুমকুম আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলা দায়ের করলেন, যা সালমান শাহর মৃত্যুর তদন্তে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।


