জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা মো. জোবায়েদ হোসেন হত্যার ঘটনায় বংশাল থানায় মামলা করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর জোবায়েদ হোসেনের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদি হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
এনায়েত হোসেন সৈকত সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করেই মামলা করেছি। আমাদের মানসিক অবস্থা ভালো না থাকায় মামলা করতে দেরি হয়। প্রকৃত আসামিদের নাম উল্লেখ করেই মামলা করেছি।’
বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে মামলার সব আসামিদের আটক করা হয়েছে। যেহেতু মামলা হয়েছে, এখন তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মঙ্গলবারই আটককৃতদের আদালতে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।
রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার আরমানিটোলায় একটি ভবনের সিঁড়ি থেকে জুবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, ছুরিকাঘাতে জুবায়েদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। টিউশনি ও বাসা হিসেবে ব্যবহৃত একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পর রোববার রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। এসময় দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।
জোবায়েদ হত্যায় আগামী ২২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের সব কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। সেই সঙ্গে দুই দিনের শোক পালনেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২১ ও ২২ অক্টোবর দুই দিন শোক পালন করা হবে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত থাকবে, তবে নিয়মিত ক্লাস চলবে।


