রাজনৈতিক বৈরিতা থাকায় ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেটের লড়াইকে একটা ভিন্ন মাত্রা দেয়ার চেষ্টা করা হয় সবসময়ই। বড় মঞ্চ ছাড়া দুই প্রতিবেশীর দেখা-সাক্ষাত হয় না বললেই চলে। তাই দর্শকদের আগ্রহও থাকে তুঙ্গে, আয়োজকরাও সব চেষ্টা করেন ম্যাচকে হাইপ দিতে। কিন্তু যদি এক দশক পেছন ফিরে তাকান, মনে রাখার মতো খুব বেশি ম্যাচ এই দুই দল উপহার দিতে পারেনি। বেশিরভাগ ম্যাচই শেষ হয়েছে ভারতের একচেটিয়া দাপটে। রবিবার সন্ধ্যায় এবারের এশিয়া কাপেও ভিন্ন কিছু হয়নি।
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারতের দুই বাঁহাতি স্পিনার অক্ষর প্যাটেল-কুলদীপ যাদবের জাদুতে ২০ ওভারে মাত্র ৯ উইকেটে মাত্র ১২৭ রান করে পাকিস্তান। জবাবে অভিষেক শর্মার ঝড়ো ৩১ রানের পর অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের ৪৭* রানের দারুণ ইনিংসে ৭ উইকেটে জিতল ভারত। ২৫ বল হাতে রেখে পাওয়া এই জয়ে সুপার ফোর প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে তাদের।
ব্যাটিং ধসের পর পাকিস্তানের স্কোরকার্ড একটু সুশ্রী হয়েছে ইনিংসের শেষ ওভারে শাহীন শাহ আফ্রিদি দুটো ছক্কা মারার পর। এরপর ভারতকে রান তাড়ায় পাঠিয়ে বেশ কয়টা ক্যাচ ফেলে অল্প পূঁজির এই ম্যাচে ন্যুনতম লড়াইটাও করতে পারেনি পাকিস্তান। সাফল্য বলতে সাইফ আইয়ুবের নেয়া তিন উইকেট।
রান তাড়ায় নামা অভিষেক শর্মার ১৩ বলে ৩১ রানের ঝড় থামিয়েছেন এই অফস্পিনার। ইনিংস বড় করার আগে দারুণ এক ক্যারম বলে শুবমান গিলকে বাইরে টেনে এনে করিয়েছেন স্টাম্পিং। তিলক ভার্মাকে করেছেন বোল্ড। অবশ্য বাকি বোলারদের কেউই সাফল্য পাননি, পারেননি ভারতের ব্যাটিং অর্ডারে কিংবা রানের গতি থামাতে। অধিনায়ক সূর্যকুমার আর তিলকের ৫৬ রানের জুটিই যথেষ্ট ছিল ম্যাচ জেতার জন্য, কারণ পাওয়ারপ্লেতে দাপট যা দেখানোর ছিল অভিষেক সেই কাজটা সেরেই ফিরেছিলেন।
এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট হারায় পাকিস্তান। মজার ব্যাপার হচ্ছে পাকিস্তানের প্রথম দুই উইকেটের নেপথ্যে আছে হার্দিক পান্ডিয়া আর জাসপ্রিত বুমরাহর ‘জুটি। ইনিংসের শুরুতে হার্দিকের বলে বিদায় নেন সাইম আইয়ুব পয়েন্টে বুমরাহর কাছে ক্যাচ দিয়ে। দ্বিতীয় ওভারে বুমরাহর বলে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মোহাম্মদ হারিস।
এরপর পাকিস্তান টালমাটাল হয়েছে ভারতের দুই বাঁহাতি স্পিনারের ভেলকিতে। শুরুটা করেছেন অক্ষর প্যাটেল, সাথে দাপট দেখিয়েছেন চায়নাম্যান কুলদীপ যাদব। অবশ্য এর আগে ফখর জামান আর সাহিবজাদা ফারহান তৃতীয় উইকেটে ৩৯ রানের একটা জুটিতে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্ত দুই বাঁহাতি স্পিনারের জাদু ঠিক বুঝে উঠতে পারেনি পাকিস্তান।
অক্ষরকে তুলে মারতে গিয়ে ফখর জামান লং অনে ক্যাচ দেন তিলকের হাতে। এক ওভার পর বোলিংয়ে ফিরে নেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগার উইকেটও। টার্নের এগেইন্টে সুইপ করতে গিয়ে ফাইন লেগে ধরা পড়েন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
এর পরের গল্পটা কুলদীপের। ইনিংসের ১৩তম ওভারে বোলিংয়ে এসে জাগিয়েছিলেন হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা। পরপর দুই বলে তুলে নিয়েছেন হাসান নওয়াজ ও মোহাম্মদ নওয়াজের উইকেট। এরপর নিজের শেষ ওভারে সর্বোচ্চ ৪০ রানের ইনিংস খেলা ফারহানকেও ফেরত পাঠিয়েছেন হার্দিকের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করে। ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে শেষ করেছেন বোলিং, যার মধ্যে ডটই ছিল ১৫টি। ওদিকে অক্ষর তার চেয়ে এক উইকেট কম পেলেও ডট দিয়েছেন সমান সংখ্যক, রানও দিয়েছেন ১৮।


