দেশের মঞ্চনাট্যের অন্যতম ব্যক্তিত্ব ও ‘মঞ্চসারথি’ হিসেবে পরিচিত প্রয়াত আতাউর রহমান–এর প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার বাদ যোহর রাজধানীর মগবাজারে ইস্পাহানি সেঞ্চুরি আর্কেডে তার বাসভবনের সামনে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তার ছোট ভাই আবু নোমান মামুদুর। এতে নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, জাহিদ হাসান, নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও গাজী রাকায়েতসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজিদ জানিয়েছেন, বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ রাখা হবে। পরে বাদ আছর বনানী কবরস্থানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন এই নাট্যজন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার মেয়ে শর্মিষ্ঠা রহমান।

টানা ১০ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর সোমবার দিবাগত রাত ১১টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আতাউর রহমান। আগামী জুনে তার ৮৫ বছর পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী শাহিদা রহমান, ছেলে শ্বাশত রহমান, মেয়ে শর্মিষ্ঠা রহমানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ১ মে বাসায় পড়ে যাওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। প্রথমে তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও আইসিইউ সুবিধা না থাকায় পরে ধানমন্ডির অন্য একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। গত শনিবার সাময়িক উন্নতি হওয়ায় লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হলেও পরে আবার অবস্থার অবনতি হলে পুনরায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সোমবার দিবাগত রাতে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্ম নেওয়া আতাউর রহমান ছিলেন দেশের স্বাধীনতাত্তোর মঞ্চনাট্য আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকাবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর এই নাট্যব্যক্তিত্ব নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ১৯৭২ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বুড়সালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকের মাধ্যমে নির্দেশক হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে।
দীর্ঘ নাট্যজীবনে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন ‘গডোর প্রতীক্ষায়’, ‘গ্যালিলিও’, ‘রক্তকরবী’, ‘এখন দুঃসময়’, ‘অপেক্ষমাণ’, ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, ‘ম্যাকবেথ’, ‘নারীগণ’ ও ‘রুদ্র রবি ও জালিয়ানওয়ালাবাগ’সহ বহু আলোচিত নাটক। পাশাপাশি তিনি ছিলেন লেখক, শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক। তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘মঞ্চসারথির কাব্যকথা’, ‘নাটক করতে হলে’, ‘নাট্যপ্রবন্ধ বিচিত্রা’ ও ‘লেখনী’। অভিনয়ও করেছেন টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রে।
বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন তিনি। দেশের সংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার।


