ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপি কর্মী মকবুল হোসেন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদকে আবারও তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ এ আদেশ দেন। চার দফায় ১৭ দিনের রিমান্ড দেওয়া হলো। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, তৃতীয় দফায় ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে আজ আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর ঢাকার পল্টন থানায় বিএনপি কর্মী মকবুল হত্যা মামলায় আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের স্পেশাল অপারেশন টিমের উপপরিদর্শক মো. তোফাজ্জল হোসেন।আসামি পক্ষের আইনজীবী মোর্শেদ হোসেন শাহিন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করেন।
এদিন আদালতে শুনানিতে পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘পুলিশ ও ডিজিএফআইকে ব্যবহার করে শেখ হাসিনা ক্ষমতার দখল নেয়। এই মামুন খালেদ ডিজিএফআইকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের উপর দমন-পীড়ন চালায়। শেখ মামুন খালেদের সময়ে ডিজিএফআইকে সর্বোচ্চ রাজনীতিকরণ করা হয়। যারা শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচারী হতে সাহায্য করেছিল তারা অবসরের পরে বিভিন্নভাবে পুরুষ্কৃত হয়েছে। অধিকতর তথ্যের জন্য তার জামিন নামঞ্জুর করে রিমান্ড প্রয়োজন।’
এ সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে শেখ মামুন খালেদ বলেন, ‘আমার লাইফে কোনও পলিটিক্যাল সংশ্লিষ্টতা ছিলো না। আমি চাকরির পরে পুরোটা সময় একাডেমিক কাজে যুক্ত ছিলাম। ছাত্রদের পড়াতাম আর নিজে পড়াশোনা করতাম। আমার পাঁচটা মাস্টার্স তিনটা পিএইচডি ডিগ্রি । আমি বিইউপির একজন ফাউন্ডিং ভিসি। আমি কোনও পলিটিক্যাল পার্টির সাথে যুক্ত ছিলাম না।’
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে, গত ২৫ মার্চ মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুরের ডিওএইচএসের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। এরপর ফের ৩১ মার্চ আসামিকে ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। পরে ৬ এপ্রিল আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকারের পতনে এক দফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এ সময় বিএনপির নয়া পল্টন কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। একইসময়ে কার্যালয়ের পাশে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালানো হয়। এতে মকবুল হোসেন নামে এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।


