দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তনের পর অবশেষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল সংসদ (জকসু) নির্বাচন।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও ভোটকেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখা গেলেও, বারবার নির্বাচন পেছানোর ফলে উৎসবের আমেজে কিছুটা ভাটা পড়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
পূর্বনির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অনেক কেন্দ্রে ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সময় পরিবর্তনের বিষয়ে সিন্ডিকেট সদস্য ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি রইস উদ্দীন টাইমসকে জানান, ‘তফসিল বা সিডিউল অনুযায়ী সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা ছিল এবং সেই নিয়মেই সব চলছে।’ তবে নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা পর ভোট শুরু হওয়ায় কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
নির্বাচন ঘিরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘ কয়েক দশকের উদ্দীপনা থাকলেও বারবার স্থগিতের সিদ্ধান্তে সেই জোয়ারে কিছুটা ভাটা পড়েছে। গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী রাফিদ আহমেদ টাইমসকে বলেন, ‘একবার বাতিল হওয়ার পর নির্বাচনের সেই আমেজটা বোধ হয় অনেক কমে গেছে। তবে আমাদের প্রত্যাশা, দলীয় স্বার্থ ত্যাগ করে সবাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত উন্নয়নে কাজ করবেন।’
একই সুর শোনা গেল ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ প্যানেলের সদস্য পদপ্রার্থী জাবির খানের কণ্ঠে। তিনি টাইমসকে বলেন, ‘আগের মতো সেই স্বতঃস্ফূর্ত আমেজ এখন আর নেই। ৩০ ডিসেম্বর যে বিপুল উপস্থিতি ও আগ্রহ ছিল, আজকে তার চেয়ে কম দেখা যাচ্ছে। এর জন্য প্রশাসনই দায়ী, কারণ তারা বারবার তারিখ পরিবর্তন করে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ নষ্ট করেছে।’
এদিকে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ক্যাম্পাস ও এর আশপাশে পুলিশ এবং বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি এবং হল সংসদের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের চাপ সামলাতে প্রতি ১০০ জন ভোটারের জন্য একটি করে গোপন বুথ রাখা হয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ছয়টি ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিডার) মেশিনের মাধ্যমে ভোট গণনা করা হবে।
নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান বলেন, ’আমরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। মঙ্গলবার ভোরে কড়া নিরাপত্তায় ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে। ডিজিটাল ওএমআর পদ্ধতিতে দ্রুততম সময়ে নির্ভুল ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হবে।’
ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী বি এম আতিকুর রহমান তানজিল টাইমসকে বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে এবার উল্লেখযোগ্য উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘদিন তরুণরা ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। জকসু নির্বাচনের মাধ্যমে আবাসন সংকট নিরসন, গুণগত মান রক্ষা এবং গবেষণায় মনোনিবেশ করার প্রত্যাশাও শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের একক সিদ্ধান্তের কারণে একবার নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি করে। এ নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ ছিলেন। ফলে এবার উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে।
এই নির্বাচনটি এর আগে দুই দফা স্থগিত করা হয়েছিল। সর্বশেষ গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের কথা থাকলেও সেদিন সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে প্রশাসন পুনরায় সভা ডেকে আজ ৬ জানুয়ারি নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। এরপরই শুরু হবে ওএমআর পদ্ধতিতে ফলাফল গণনার কাজ।


