প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিশেষায়িত ও উদ্ভাবনী স্বাস্থ্যসেবা মডেল ‘শিশু স্বর্গ’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত জানিয়েছেন, দুই দশকের গবেষণার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই মডেলের মাধ্যমে শিশুদের প্রতিবন্ধিতা শনাক্তের গড় বয়স পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে মাত্র আট মাসে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ফলে শিশুর জীবনের শুরুতেই প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে, যা তাদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বৃহস্পতিবার জেনেভার হোটেল রয়্যালে অনুষ্ঠিত ৭৯তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের এক সাইড ইভেন্টে ‘শিশু স্বর্গ’ মডেল উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে ৩০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি এবং ২০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার ৪০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। প্যানেল আলোচকসহ অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে মডেলটি প্রশংসা পায়।
অনুষ্ঠানে এম এ মুহিত বলেন, প্রতিবন্ধিতাকে শুধু চিকিৎসা বা শারীরিক সীমাবদ্ধতার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে চলবে না; এটিকে সামাজিক বাস্তবতার আলোকে মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, কোনো শিশু দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তির সমস্যায় ভুগলেও সমাজ যদি তাকে প্রয়োজনীয় সহায়ক উপকরণ না দেয়, তখনই সে প্রকৃত অর্থে প্রতিবন্ধিতার মুখোমুখি হয়। সময়মতো সঠিক সহায়তা ও উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অনেক সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
প্রতিমন্ত্রী জানান, শতাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রের ভিত্তিতে তৈরি ‘শিশু স্বর্গ’ মডেল আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের দীর্ঘ গবেষণার ফসল।
তিনি আরও বলেন, দেশে প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে এমন প্রায় ৭৫ শতাংশ পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। এ বাস্তবতায় স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচনা করে সরকার ‘শিশু স্বর্গ’ মডেলটি সারা দেশে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।
কার্যক্রম বাস্তবায়নে ছয় স্তরের প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে বলেও জানান তিনি। উচ্চপর্যায়ের স্টিয়ারিং কমিটির তত্ত্বাবধানে সরকারের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করা হবে।
বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা শুধু স্বাস্থ্য খাতের বিষয় নয়, এটি বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি বৈশ্বিক মানবাধিকার উদ্যোগ।
মূল বক্তব্যের পর আয়োজিত প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন জেনেভা ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের হুবার্ট ভুয়াগনাত, সাইটসেভার্স ইন্টারন্যাশনালের সারাহ কলিনসন, পাকিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মালিক মুহাম্মদ সাফি এবং সেভ দ্য চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনালের ডেনিস শ্রোয়েডার।
সমাপনী বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।


