ঢাকার সাভারে গত সাত মাসে একের পর এক অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই এলাকায় ছয়জনকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রোববার সম্রাট নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, সম্রাট একজন ‘সিরিয়াল কিলার’ এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। একাধিক সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে সম্রাটকে শনাক্ত করে পুলিশ।
ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সাইদুল ইসলাম জানান, আটক সম্রাট সাভার মডেল থানার আশপাশে কয়েক বছর ধরে ঘোরাফেরা করতেন।
অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা শুরু হয় গত বছরের ৪ জুলাই। সেদিন সাভারের মডেল মসজিদের পেছনের একটি স্থান থেকে গলায় রশি প্যাঁচানো অবস্থায় অজ্ঞাত (৬৫) এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই নারী সাভার বাসস্ট্যান্ড ও ফুটওভার ব্রিজ এলাকায় ভিক্ষা করতেন।
এরপর সাভার মডেল থানার কাছাকাছি একটি পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টার থেকে পর্যায়ক্রমে আরও পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। থানা সংলগ্ন এলাকায় ভবনটি অবস্থিত হলেও, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সবশেষ রোববার দুপুরে ওই পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টার থেকে দুটি পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মরদেহ দুটি একজন নারী ও এক ছেলে শিশুর। আগুনে পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, কয়েকজন শিশু-কিশোর ও সাভার কলেজের এক শিক্ষার্থী ভবনের ভেতরে মরদেহ দুটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের বিষয়টি জানায়। পরে জরুরি সেবা নম্বরে যোগাযোগ করলে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
একই কমিউনিটি সেন্টার থেকে একে একে এ নিয়ে মোট পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে গত ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে ভবনটির দ্বিতীয় তলার টয়লেট থেকে এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এর আগে, গত ১১ অক্টোবর রাতে ওই ভবনের ভেতর থেকে অজ্ঞাত (৩০) এক নারীর অর্ধনগ্ন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারও আগে, গত বছরের ২৯ আগস্ট রাতে একই স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই যুবকের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
একাধিক মরদেহ উদ্ধারের পরও দীর্ঘদিন ধরে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত সব হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


