আগামী নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ইসলামি দলগুলোর একক জোট হতে দিতে চায় না বিএনপি। এজন্যে তারা হেফাজতে ইসলাম-ঘনিষ্ঠ ইসলামি দলগুলোকে নিজেদের কাছে টানার কৌশল গ্রহণ করেছে।
এই কৌশলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একাংশ, ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশ, নেজামে ইসলামী ও জমিয়াতুল মোদার্রেসিনের মতো সংগঠনগুলোকে নিয়ে জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি।
হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও কয়েকটি ইসলামি দলের নেতারা একই সঙ্গে হেফাজতে ইসলামেরও সাংগঠনিক নেতা। জমিয়াতুল মোদার্রেসিনের দুটি সংগঠন ইসলামী যুব কাফেলা ও ইসলামী ছাত্র কাফেলাকে বেশ শক্তিশালী মনে করে বিএনপি। এসব ইসলামি রাজনৈতিক দল ও সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটে যাচ্ছে না। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও এসব দলের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর মতপার্থক্য রয়েছে।
এসব দলের সঙ্গে জোট গঠনের পাশাপাশি হেফাজতে ইসলামের আমির মাওলানা শাহ মহিবুল্লাহ বাবুনগরী, শর্ষিণার পীর মুফতি শাহ আবু নসর নেসারউদ্দিন এবং আলিয়া মাদ্রাসাভিত্তিক আলেম-ওলামাদের সঙ্গেও বিএনপি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলছে। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ঘনিষ্ঠ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, এই জোট গঠনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে বিএনপির কথা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মামুনুল হককে ঢাকা-৭ আসন ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এগুলোর পাশাপাশি আরও দু’একটি আসন খেলাফত মজলিশকে ছেড়ে দিতে পারে বিএনপি।
মাওলানা মামুনুল হক বিষয়টি ‘টাইমস অব বাংলাদেশে’র কাছে স্বীকার করে বলেন, আসন সমঝোতা ছাড়াও ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্র পরিচালনার কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব নীতিগত বিষয়ের আলোচনা শেষ হয়নি। তাই জোট গঠনের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের পাশাপাশি বিএনপির কাছে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে জমিয়তে উলামা ইসলাম। এই দলটি জোটে আসার সম্ভাবনায় সিলেট-৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, নারায়ণগঞ্জ-৪ এবং নীলফামারী-১ আসনে বিএনপি এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি।
গত ২০১৮ সালের নির্বাচনে সিলেট-৫ আসনে জমিয়তে উলামা ইসলামের আমির উবায়দুল্লাহ ফারুক বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। দলটি এবারও বিএনপির জোটে যোগ দিলে আসনটি তাকেই ছেড়ে দেওয়া হবে। এ ছাড়া নীলফামারী-১ আসনে দলের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনির হোসেন কাসেমীকে জোটের প্রার্থী করা হতে পারে।
তবে জমিয়তে উলামা ইসলামের সূত্রে জানা গেছে, তারা বিএনপির কাছে ১২টি আসন দাবি করছেন। তবে বিএনপি এতগুলো আসন ছাড়তে রাজি হচ্ছে না।
ইসলামি দলগুলোকে নির্বাচনী জোটে টানার বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’কে বলেন, ফ্যাসিস্টবিরোধী সকল শক্তির জন্য বিএনপির দরজা খোলা আছে। বিএনপি উদার। ফ্যাসিবাদ বিরোধী যারাই আসতে চান তাদের সঙ্গে আলোচনা হবে, কথা হবে। এখনো কোনো কিছু চুড়ান্ত হয়নি।
বিএনপি নেতাদের বিশ্বাস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ও জমিয়তে উলামা ইসলামকে জোটে টানতে পারলে ধর্মভিত্তিক আরও কয়েকটি দল এই জোটে চলে আসবে। সেক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বধীন জোট এককভাবে ধর্মের নামে ভোট চাওয়ার সুযোগ পাবে না। বিশেষ করে হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ মহিবুল্লাহ বাবুনগরীকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে বিএনপি। কারণ, হাটহাজারী মাদ্রাসাসহ সারা দেশে কওমি মাদ্রাসাগুলোতে তার প্রভাব বেশি। তাই বিএনপির নেতারা মাওলানা শাহ মহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিএনপির শীর্ষ কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, ইসলামি দলগুলো জোটে এলে আগেই ঠিক হওয়া জোটসঙ্গীদের নিয়ে একটি বৃহত্তর জোট হবে। সেক্ষেত্রে জোটের শরীকদের ৪০টি আসন ছাড় দিতে পারে বিএনপি। আর তারা না এলে এরই মধ্যে চূড়ান্ত হওয়া জোটসঙ্গীদেরকে কমবেশি ৩০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে চূড়ান্ত হওয়া জোটসঙ্গীদের মধ্যে আছে গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনডিএম), লেবার পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, ভাসানী জনশক্তি পার্টির মতো দল।


