হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বড় বহুলায় সাবেক স্ত্রীর মুখে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন অভিযুক্ত উজ্জ্বল মিয়া।
শুক্রবার বিকালে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানজিনা রহমান তানিন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
এর আগে শুক্রবার অভিযুক্ত উজ্জ্বল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের আব্দুল বারিকের ছেলে।
জবানবন্দিতে উজ্জ্বল আদালতকে জানান, তার সাবেক স্ত্রী রুবিনা আক্তার অন্য একজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন, এমন ক্ষোভ থেকেই তিনি তাকে এসিড নিক্ষেপ করেন।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ বহুলা গ্রামে অ্যাসিড নিক্ষেপের এই ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর দগ্ধ হন রুবিনা আক্তার। খবর পেয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় হবিগঞ্জ সদর থানা।
ভুক্তভোগী রুবিনার স্বজনরা জানান, কয়েক বছর আগে উজ্জ্বলের সঙ্গে রুবিনার বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। তবে পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় ছয় মাস আগে তাদের বিয়েবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে রুবিনা হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে প্রাণ কোম্পানিতে কাজ করতেন।
তারা অভিযোগ করেন, তালাকের পরও উজ্জ্বল রুবিনাকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন। বৃহস্পতিবার রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রুবিনার মুখ লক্ষ্য করে অ্যাসিড ছুড়ে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে সেখানে অবনতি হলে রুবিনাকে ঢাকা বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারীতে ভর্তি করা হয়।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি জাহিদুর রহমান জানান, দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী রুবিনা অন্য একজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলে সন্দেহ করতেন উজ্জ্বল। এ ছাড়া তাদের ১০ ও ৭ বছর বয়সী দুই ছেলে উজ্জ্বলের কাছে থাকলেও রুবিনা তাদের কোনো খোঁজখবর নিতেন না বলে তিনি দাবি করেন। এসব বিষয় নিয়ে ক্ষোভ থেকেই রুবিনার ওপর হামলার পরিকল্পনা করেন উজ্জ্বল।
পরে একটি ব্যাটারি থেকে অ্যাসিড সংগ্রহ করে তিনি রাস্তায় উৎ পেতে থাকেন। রুবিনা ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্র তার ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপ করেন। এ বিষয়ে রুবিনার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা হলে পুলিশ উজ্জ্বলকে গ্রেপ্তার করে এবং শুক্রবার বিকালে আদালতে হাজির করা হলে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।


